অনলাইন ডেস্ক, ২৯ ডিসেম্বর।। জয় নিয়ে কোনও সংশয় ছিল না। দেখার ছিল, অস্ট্রেলিয়া কতটা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। কিন্তু ভারতীয় বোলিংয়ের সামনে বেশি সময় লড়াই করতে পারলেন না প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্করা। জয়ের জন্য ৭০ রান দুই উইকেট হারিয়ে তুলে নিয়ে চলতি টেস্ট সিরিজে সমতা ফেরাল ভারত। এক দিন বাকি থাকতেই। ম্যাচের সেরা সঙ্গত কারণেই অজিঙ্ক রাহানে। তবে অগ্নিপরীক্ষায় সফল হওয়ার পরেও রাহানের মধ্যে দেখা গেল না বাড়তি কোনও উচ্ছ্বাস। বরং তিনি শোনালেন তারুণ্যের জয়গান। শুভমন গিল এবং মহম্মদ সিরাজ, বক্সিং ডে টেস্টের দুই অভিষিক্ত যুবা ভারতীয় ক্রিকেটে দিয়ে গেলেন নতুন বার্তা। দুই ইনিংস মিলিয়ে গিলের রান ৮০।
দুই ইনিংস মিলিয়ে সিরাজের ঝুলিতে পাঁচ উইকেট। রাহানে বলে গেলেন, “ওদের নিয়ে আমি গর্বিত। সত্যি বলতে, এই জয়ের একটা বড় প্রশংসা ওদেরই প্রাপ্য। অভিষেক টেস্টে ওরা প্রমাণ করে দিয়েছে, কতটা লড়াই করার ক্ষমতা রয়েছে। অ্যাডিলেডে বিশ্রী হারের পরে এই জয়টা সব দিক থেকেই আমাদের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান।” যোগ করেছেন, “প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কতটা দৃঢ়তার সঙ্গে লড়াই করতে পারছি, তার উপরেই সাফল্য নির্ভর করে। উমেশ চোট পেয়ে বেরিয়ে যাওয়ার পরেও আমাদের মানসিকতায় কোনও পরিবর্তন হয়নি। এটা অবশ্যই দারুণ একটা প্রাপ্তি।” শুভমন এবং সিরাজের প্রশংসা করে রাহানে বলেছেন, “শুভমন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে কতটা সফল, সেটা সকলেই জানেন। আন্তর্জাতিক মঞ্চেও সেটা ও প্রমাণ করে দিয়েছে। ওর পরিপূর্ণ ক্রিকেটটাই আমরা চাই।
ঠিক যেমন সিরাজ দেখিয়ে দিয়েছে, নিজের দক্ষতায় পূর্ণ ভরসা রেখে শৃঙ্খলিত বোলিং করে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করা যায়। বিশেষ করে, একজন পেস বোলারের পক্ষে অভিষেক টেস্টে মাথা ঠান্ডা রেখে বোলিং করা বেশ কঠিন। কিন্তু ওকে দেখে একবারও তা মনে হয়নি। এটাও কিন্তু প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে খেলারই সুফল বলে মানতে হবে।” রাহানে জানিয়েছেন, মেলবোর্নে খেলতে নামার আগে তাঁরা সকলেই ঠিক করেছিলেন, মাঠে নেমে নিজেদের লড়াকু মেজাজকে ধরে রাখতে হবে। তা হলেই অস্ট্রেলিয়ার মতো দলকে চাপে রাখা সম্ভব। তিনি বলেছেন, “মাঠে নেমে নিজেদের কাজটা ঠিক ভাবে পালন করতে হবে। ম্যাচে নামার আগে সেই কথাটাই বলেছিলাম সকলকে।
মনে রাখা দরকার, অ্যাডিলেডেও প্রথম দুটো দিন আমরাই ম্যাচের চালক ছিলাম। তার পরে লড়াই থেকে ছিটকে গিয়েছিলাম। সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সকলে শপথ করেছিলাম, কোনও অবস্থায় সেই পরিস্থিতি তৈরি হতে দেব না। আর আমাদের সেই কাজটা আরও মসৃণ করে দিল রবীন্দ্র জাদেজা। ওর অলরাউন্ড পারফরম্যান্স জয়ের রাস্তা পরিষ্কার করে দিল।” যোগ করেন, “এই জয়ের মধ্যেই সুখবর, রোহিত শর্মা আবার দলে ফিরে এসেছে। ও-ও আমাদের সঙ্গে এবার অনুশীলনে নেমে পড়বে। তৃতীয় টেস্টের আগে দলটা আবার একটা জায়গায় চলে এসেছে। এটাই খুব আনন্দের।”