অনলাইন ডেস্ক, ২৯ ডিসেম্বর।। নিজের তিন ছেলে মেয়েকে ১০ বছর ধরে ঘরের মধ্যে আটকে রেখেছিল বাবা। তিন ছেলেমেয়েই যথেষ্ট উচ্চশিক্ষিত। তাদের বয়স ৩৫ থেকে ৪৫-এর মধ্যে। এক সমাজসেবী সংস্থা পুলিশের সাহায্যে শেষ পর্যন্ত ওই তিন জনকে উদ্ধার করে। তাদের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল হওয়ায় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গুজরাতের রাজকোট এর কিষাণপাড়ায় এই ঘটনা ঘটেছে। তিন ছেলে মেয়েকে এভাবে আটকে রাখায় তাদের বাবাকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, নবীন মেহতা একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী। ১০ বছর আগে তাঁর স্ত্রী মারা যান।
পরিবারের চারজন সদস্য থাকলেও প্রতিবেশীরা শুধু নবীনকেই দেখতে পেতেন। কারণ নবীন একার হাতে বাড়ির সব কাজ করতেন। ছেলে-মেয়েদের কাউকেই বাড়ির বাইরে দেখা যেত না। অনেকেই মনে করেছিলেন তাঁরা হয়তো বাইরে থাকেন। নবীনের বড় ছেলের পেশা ছিল ওকালতি। ছোট ছেলের বয়স ৪০। তিনি অর্থনীতির স্নাতক এবং মেয়ে সাইকোলজিতে স্নাতকোত্তর করেছেন। অর্থাৎ প্রত্যেকেই উচ্চশিক্ষিত। সম্প্রতি জনৈক প্রতিবেশীর নবীনের উপর সন্দেহ হওয়ায় তিনি এক সমাজসেবী সংস্থাকে বিষয়টি জানান। ওই সংস্থাই পুলিশের সাহায্য নিয়ে নবীনের বাড়ির একটি ঘরের দরজা ভেঙে তিন জনকে উদ্ধার করে।
প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, ওই ঘরের চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল মল-মূত্র, পচা খাবার, আধ খাওয়া খাবার। মেঝেতে তিনটি কঙ্কালসার মানুষের দেহ। তাদের গায়ে এতটুকু পোশাক ছিল না। ছেলেদের চুল হাঁটুর নিচে চলে গিয়েছিল। দাড়ি এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে মুখ দেখা যাচ্ছিল না। নবীন অবশ্য দাবি করেছেন, তাঁর স্ত্রীর মৃত্যুর পর ছেলেমেয়েরা প্রচণ্ড মানসিক আঘাত পায়। সে কারণেই তারা নিজেদের ঘর বন্দি করে রাখে। নবীনের এই বক্তব্যের সত্যতা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। নবীন ও তার তিন ছেলে-মেয়ের মানসিক সুস্থতার বিষয়টিও পরীক্ষা করে দেখা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।