স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ২৮ ডিসেম্বর।। রাজ্যে সরকারি হাসপাতালে প্রথম ককলিয়ার ইমপ্ল্যান্ট সাফল্যের সঙ্গে বাস্তবায়িত হওয়ার পর সাড়ে তিন বছরের শিশুর মুখের কথা বলানোর প্রক্রিয়ায় ব্যস্ত জিবিপি হাসপাতালের চিকিৎসকগণ৷
এই সাফল্যে আনন্দিত শিশুটির পরিবার পরিজন৷ খোয়াইয়ের পহরমুড়ার বাসিন্দা সাড়ে তিন বছরের পুপিতা পাল জন্ম থেকেই বধির৷ শ্রবণশক্তি না থাকার দরুণ কথাও সে বলতে পারতো না৷
বিষয়টি রাজ্যের চিকিৎসকরা শণাক্ত করার পর এই দারিদ্রসীমার নীচে বসবাসকারী পরিবারের কন্যাটির ককলিয়ার ইমপ্ল্যান্ট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়৷ ভারত সরকার ৫.৫ লক্ষ টাকার এই ক’ত্রিম যন্ত্রটি বিনামূল্যে সরবরাহ করে৷ শুধু তাই নয়, রাজ্যে এই অপারেশনের জন্য মেন্টর হিসাবে আসেন কলকাতার প্রখ্যাত চিকিৎসক ডাঃ অমিতাভ রায় চৌধুরী৷
ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে অস্ত্রোপচার করেন জিবিপি হাসপাতালের ই এন টি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডাঃ বিপ্লব নাথ৷ প্রায় তিন ঘন্টার এই জটিল অপারেশনে টিমে অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট ডাঃ অনুপম চক্রবর্তী সহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন৷
জিবিপি হাসপাতালে সম্পর্ণ বিনামূল্যে অপারেশন পর্ব সমাপ্ত হয়৷ সফল অস্ত্রোপচার শেষে শিশুটি সুুস্থ হয়ে উঠার পর কেরালা থেকে আগত স্পিচ থেরাপিস্টের পরামর্শ অনুসারে এখন রাজ্যের চিকিৎসকরা তাকে কথা বলানোর জন্য প্রচেষ্টা শুরু করেছেন৷
গত ২৫ ডিসেম্বর মেয়েটির শ্রবণশক্তির পরীক্ষায়ও দেখা যায় যে সে স্বাভাবিকভাবেই শব্দ শুনতে পাচ্ছে৷ এখন শ্রবণ ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে মস্তিষ্কে বিভিন্ন শব্দের পরিচিতি ঘটানোর কাজ শুরু করেছেন চিকিৎসক এবং স্পিচ থেরাপিস্টগণ৷
আগামী শুক্রবার তার পুনরায় পরীক্ষা নিরীক্ষা ও কথা বলানোর প্রক্রিয়ার উদ্যোগ নেবেন চিকিৎসক এবং স্পিচ থেরাপিস্টগণ৷ চিকিৎসকদের পাশাপাশি তার পরিবারের সদস্যদেরও প্রত্যাশা শ্রবণশক্তি যেহেতু শিশুকন্যাটি ফিরে পেয়েছে, তাই কথা বলার বহু প্রতীক্ষিত মুহর্তটি অদূর ভবিষ্যতে আশা করা যাচ্ছে৷