অনলাইন ডেস্ক, ২৭ ডিসেম্বর।। ক্রিসমাস উদযাপনের জন্য সাজানো হয়েছিল ঘর। পরদিন সকালেই দেখা গেল ইলেকট্রিক শক খেয়ে মারা গিয়েছেন গৃহকর্ত্রী। অবশেষে জানা গেল এমন দুর্ভাগ্যজনক মৃত্যু মোটেই দুর্ঘটনা নয়। রীতিমতো পরিকল্পনা মাফিক স্ত্রীকে খুন করেছে স্বামী! পুলিশের জেরার মুখে ভেঙে পড়ে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছে অভিযুক্ত। ঘটনাটি ঘটেছে কেরলের তিরুবনন্তপুরম জেলায়। জানা গিয়েছে, মাস দুয়েক আগে বিয়ে হয়েছিল শাখা কুমারী ও অরুণের। বয়সে অরুণ অনেকটাই ছোট। তার বয়স ২৮। স্ত্রীর বয়স ৫১। বিয়ের পর থেকেই শুরু হয়েছিল অশান্তি।
নিয়মিত ঝগড়া হত দু’জনের মধ্যেই। তাদের দাম্পত্য কলহের কথা প্রতিবেশীদের ভাল করেই জানা ছিল। এই অবস্থায় আচমকাই শনিবার সকালে স্ত্রীর অচেতন হয়ে যাওয়ার কথা জানায় অরুণ। আর সেই সময় থেকেই সন্দেহ দানা বাঁধতে থাকে সকলেরই মনে। ঠিক কী হয়েছিল? শুক্রবার ক্রিসমাসের দিন ঘর আলোয় সাজানো হয়েছিল। সেই সময়ই স্ত্রীকে খুনের ছক কষতে শুরু করে অরুণ। শেষ পর্যন্ত ফন্দি এঁটে ঘর সাজানোর আলোতেই কারসাজি করে রাখে সে। অচিরেই কারেন্ট শক খেয়ে মারা যায় শাখা কুমারী।
প্রতিবেশীদের সঙ্গে মিলে অরুণ পরে স্ত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তাররা জানিয়ে দেন, অনেক আগেই মারা গিয়েছেন শাখা। দুর্ঘটনাবশত স্ত্রীর তড়িদাহত হওয়ার কথা জানায় অরুণ। কিন্তু ডাক্তারদের সন্দেহ হতে থাকে। প্রাথমিক পরীক্ষার পরই তাঁরা খবর দেন পুলিশকে। এরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটক করে অরুণকে। পুলিশি জেরার মুখে অবশেষে ভেঙে পড়ে সে জানায়, সেই খুন করেছে স্ত্রীকে। তবে কেন সে স্ত্রীকে খুন করল তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। সেই সঙ্গে অপেক্ষা রয়েছে শাখা কুমারীর ময়না তদন্তের রিপোর্টেরও। তারপরই পুরো বিষয়টা পরিষ্কার হবে বলে জানিয়েছে কেরল পুলিশ।