অনলাইন ডেস্ক, ২৩ ডিসেম্বর।। রোভেলি জাবালা নামে এক নারী তার দশম সন্তানের জন্ম দেবেন। ৪১ বছর এ নারীর কোলে তখন তার নবম সন্তানটি। সাংবাদিককে অন্যান্য সন্তানদের পরিচয় করিয়ে দিচ্ছিলেন। এর মধ্যে একজনের নাম ভুলেও গেলেন তিনি। এ হলো ফিলিপাইনের পরিস্থিতি। দেশটির রাজধানী ম্যানিলা জনসংখ্যার ভারে জর্জরিত। ম্যানিলা বে থেকে সিয়েরা মাদরে মাউন্টেন পর্যন্ত ১৩ মিলিয়ন মানুষ বাস করছে। প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৭০ হাজার মানুষ সেখানে। জনসংখ্যার এই চাপ সইতে হয় শহরটির কারাগারেও, যেখানে ধারণ ক্ষমতার ৩০০ গুণ বন্দীকে রাখা হয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, সপ্তম সন্তান জন্ম দেওয়ার আগ পর্যন্ত পরিবার কল্পনার কথা জানতেনই না রোভেলি। এর মধ্যে মরার ওপর খাঁড়া হয়ে দাঁড়ায় করোনা মহামারি প্রতিরোধে লকডাউন। এই বিধিনিষেধে পড়ে জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি মানা সম্ভব হয়নি ঠিকঠাক। ফলে আরও একটি শিশু এখন তার গর্ভে। করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশে দেশে যে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয় তার মধ্যে ফিলিপাইন জারি করে বিশ্বের অন্যতম কড়া লকডাউন। ভারী সাঁজোয়া যান নিয়ে অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্রসহ রাস্তায় টহল দেয় সেনারা। চেকপয়েন্ট বসিয়ে মানুষের চলাচলে বাধা তৈরি করে পুলিশ।
খাবার নিয়ে দোকানে যাওয়ার জন্য পরিবার প্রতি মাত্র একজনকে ঘরের বাইরে আসতে অনুমতি দেওয়া হয়। এ পরিস্থিতিতে লাখ লাখ নারী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ করতে সক্ষম হননি। ফলে রোভেলির মতো দুই লাখেরও বেশি নারী এই লকডাউনে গর্ভবতী হয়ে পড়েছেন পুরো ফিলিপাইনে। লকডাউনে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এখন বড় ধরনের চাপ সইতে হবে দেশটিকে। ২০২১ সালে ফিলিপাইনে জন্ম নেবে অতিরিক্ত ২ লাখ ১৪ হাজার শিশু।
ইউনিভার্সিটি অব দ্য ফিলিপাইনস পপুলেশন ইনস্টিটিউট এবং জাতিসংঘের পপুলেশন ফান্ডের জরিপে বিষয়টি উঠে আসে। অতিরিক্ত এই বিপুলসংখ্যক শিশু জন্ম নেবে হাসপাতালে। প্রতিবছর ১৭ লাখ শিশু ফিলিপাইনে জন্ম নিয়ে থাকে। এমনিতেই অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপে জন্ম নিয়েই নানা সমস্যার মুখে পড়ে এসব শিশুরা। এর মধ্যে জন্ম নিতে যাওয়া অতিরিক্ত এ শিশুদের জন্য আরও বড় চ্যালেঞ্জ দেখা দেবে। এমন সব পরিবারে তাদের জন্ম হচ্ছে করোনা পরিস্থিতিতে পড়ে ইতিমধ্যে নিজেদের খাদ্য চাহিদায় টান পড়েছে।