অনলাইন ডেস্ক, ২১ ডিসেম্বর।। দিল্লি ও সংলগ্ন এলাকায় তাপমাত্রা নেমেছে ৩ ডিগ্রিতে। কনকনে ঠান্ডার রাতে কাহিল হয়ে পড়েছেন আন্দোলনরত কৃষকরা। এরই মধ্যে একটুকু জল পান করবেন তারও উপায় নেই। প্রবল ঠান্ডায় জল যেন জমে বরফ হয়ে গিয়েছে। কৃষকদের এই সমস্যার কথা মাথায় রেখে দিল্লি-হরিয়ানা সিংঘু সীমান্তে আনা হল একাধিক গিজার। পঞ্জাবের নিজস্ব পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়েছে এই গিজার। এই গিজারে কাঠের সাহায্যে জল গরম করা যায়।
আগে আন্দোলনরত কৃষকদের জন্য আনা হয়েছে রুটি তৈরির মেশিন। ব্যবস্থা করা হয়েছে গা-হাত-পা ম্যাসাজের। একই সঙ্গে হাইটেক সোলার প্যানেল ও ওয়াশিং মেশিনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। সোমবার কৃষকদের এই আন্দোলন ২৫ দিনে পড়েছে। কৃষকরা যেমন তাঁদের দাবিতে অনড় তেমনি সরকার পক্ষও এখনও পর্যন্ত কৃষকদের দাবি মেনে নেওয়ার কোনও ইঙ্গিত দেয়নি। ফলে সরকার ও কৃষকদের মধ্যে সংঘাত চরমে উঠেছে। এরই মধ্যে খবর মঙ্গল বা বুধবার ফের একদফা কৃষক প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলতে পারে সরকার।
আন্দোলনরত কৃষকদের যাতে কোনও সমস্যায় পড়তে না হয় সে জন্য বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাও সংগঠন ইতিমধ্যেই একাধিক ব্যবস্থা নিয়েছে। এবার আন্দোলনস্থলে নিয়ে আসা হল গিজার। অবশ্য সম্পূর্ণ পঞ্জাবের নিজস্ব পদ্ধতিতে এই গিজার তৈরি। এখানে কাঠের মধ্যে আগুন জ্বালিয়ে জল গরম করা হয়। হরপ্রীত সিং নামে এক কৃষক জানিয়েছেন, তাঁদের গ্রাম্য ভাষায় একে বলা হয় ‘জুগাড়’। পঞ্জাবের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই এই জুগাড়ের ব্যবস্থা রয়েছে। এই গিজারের জল দিয়ে স্নান, রান্না ও পান করা সবই হবে। পঞ্জাবে এ ধরনের একটি গিজারের দাম পড়ে তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা।
আন্দোলনরত কৃষকরা প্রায় সকলেই বলেছেন, প্রবল ঠান্ডার কারণে তাঁরা জলটুকুও পান করতে পারছিলেন না। গিজার চলে আসায় এবার তাঁদের সেই সমস্যা মিটবে। কৃষকরা যে সরকারের সঙ্গে কোমর বেঁধেই লড়াইয়ে নেমেছে এসব তারই প্রমাণ।