অনলাইন ডেস্ক, ২১ ডিসেম্বর।। যোগগুরু রামদেবের সংস্থা পতঞ্জলি করোনার চিকিৎসার জন্য তৈরি করেছিল করোনিল। জুন মাসে এই ওষুধ তৈরি হলেও দেশের বাজারে বিক্রির অনুমতি মেলেনি। সেই করোনিল পৌঁছে গিয়েছে ব্রিটেনে। শুধু তাই নয়, সেদেশের চিকিৎসা সংক্রান্ত সর্বোচ্চ সংস্থার কোনও অনুমতি ছাড়াই দেদার বিক্রিও হচ্ছে। তবে ব্রিটেনে এই ওষুধ করোনা সরিয়ে তুলবে এমনটা দাবি করা হচ্ছে না। বলা হচ্ছে, এই ওষুধ সেবন করলে করোনা প্রতিরোধ করা যাবে।
যদিও সেটাও নিয়ম বিরুদ্ধ। নিয়মবিরুদ্ধ এ ধরনের কাজ করায় ফের বিতর্কের মুখে পড়েছে রামদেবের এই সংস্থা। ঘটনার জেরে ব্রিটিশ মেডিসিন এন্ড হেলথকেয়ার প্রডাক্টস এজেন্সি পতঞ্জলির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে পারে বলে খবর। উল্লেখ্য, জুন মাসে করোনিল বাজারে এনেছিল রামদেবের সংস্থা। সে সময় রামদেব জানিয়েছিলেন, আয়ুর্বেদিক এই ওষুধের ব্যবহারে মাত্র সাত দিনের মধ্যে করোনা রোগীরা ১০০ সুস্থ হয়ে উঠছেন। তবে রামদেবের ওই ঘোষণার পরই কেন্দ্রীয় আয়ুষমন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, যতক্ষণ না ওষুধ সরকারিভাবে পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে ততক্ষণ এর সমস্ত প্রচার ও বিজ্ঞাপন বন্ধ রাখতে হবে।
এমনকি, পতঞ্জলির কাছ থেকে গবেষণার সমস্ত নথিপত্র চেয়ে পাঠানো হয়। পতঞ্জলির পাঠানো সমস্ত নথিপত্র পরীক্ষা করার পর আয়ুষমন্ত্রক জানায়, করোনিলকে কখনওই করোনা সারানোর ওষুধ বলা যাবে না। তবে করোনিল প্রতিষেধক হিসেবে বিক্রি করা যেতে পারে। এর পরেই খোলাবাজারে পতঞ্জলির ওই ওষুধ বিক্রি শুরু হয়। করোনিল বিক্রির ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই পতঞ্জলি প্রায় ৩০০ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে। অন্যদিকে ব্রিটেনে বার্মিংহাম ইউনিভার্সিটি তাদের পরীক্ষাগারে করোনিল পরীক্ষা করে দেখেছে। সেখানে দেখা গিয়েছে, এই ওষুধ করোনা ভাইরাসের প্রতিরক্ষায় কোন সাহায্যই করছে না। ব্রিটেনের ড্রাগ কন্ট্রোল সংস্থা ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, তারা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করবে। ছাড়পত্র না পাওয়া কোনও ওষুধ যদি সে দেশের বাজারে বিক্রি হয় তাহলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।