১১৯ দিনের লড়াইয়ে করোনাকে হারিয়ে জয়ী হলেন চিন্তেশভাই

অনলাইন ডেস্ক, ২১ ডিসেম্বর।। দীর্ঘ ১১৯ দিন চলল করোনার সঙ্গে লড়াই। প্রায় চার মাসের লড়াই শেষে শেষ হাসি হাসলেন ৪৭ বছরের ব্যবসায়ী চিন্তেশভাই কেনিয়াবালা। চার মাস আগে করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। চার মাস ধরে দাঁতে দাঁত চেপে তীব্র লড়াই করার পর তিনি একেবারে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ঠিকই, তবে খুব কাহিল হয়ে গিয়েছেন। চার মাসে ওজন কমেছে ২০ কেজি। চিন্তেশের এই লড়াই নিঃসন্দেহে মানুষকে প্রেরণা জোগাবে।

সুরাতের এক কোভিড হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, চিন্তেশের ফুসফুস ৯০ শতাংশ বিকল হয়ে গিয়েছিল। ৫০ দিন তাঁকে অক্সিজেন সাপোর্টে রাখতে হয়েছিল। একটা সময় তাঁকে বাঁচিয়ে তোলার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন চিকিৎসকরা।  চিকিৎসকরা মনে করছেন,চিন্তেশের সুস্থ হয়ে ওঠার পিছনে তাঁর পরিবারের সদস্যদের বড় ধরনের অবদান রয়েছে। চিকিৎসা চলাকালীন তাঁর পরিবারের ৩০ জন সদস্য প্রতিদিন এক জায়গায় এসে ভিডিও কল করে তাঁর সঙ্গে কথা বলতেন। তাঁকে হাসানোর এবং খুশি রাখার চেষ্টা করতেন বিভিন্ন উপায়ে।

হাসপাতালে থাকলেও তিনি যে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন এটা বুঝতে দিতেন না। পরিবারের কেউ না কেউ দু’বেলা নিয়ম করে হাসপাতালে তাঁকে দেখতে আসতেন। যদিও তাঁরা পিপিই কিট-সহ সব ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েই চিন্তেশের সঙ্গে দেখা করতেন। করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর প্রথম ২০ দিন তাঁর সার্বিক পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ ছিল। সেই ২০ দিনের কোনও কথাই তিনি এখন আর মনে করতে পারেন না। সুস্থ হয়ে উঠলেও হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, তাঁর ওজন কমেছে ২০ কেজি। শরীর প্রায় ঝাঁঝরা করে দিয়েছে এই মারণ ভাইরাস।

তবে শরীরে থাবা বসালেও চিন্তেশের মনে কোনও রকম ছাপ ফেলতে পারেনি করোনা। প্রবল মনের জোরেই করোনার হাত থেকে বেঁচে ফিরেছেন তিনি। সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠলেও তাকে কিছুদিন পর্যবেক্ষণে রাখতে চায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আর কয়েকদিন পরেই চিন্তেশেকে ছেড়ে দেওয়া হবে। পরিবারের লোকজনের চেষ্টাই এ যাত্রায় চিন্তেশেকে বাঁচিয়ে দিল। এক সময় তিনি চিকিৎসায় সাড়া দেওয়া প্রায় বন্ধ করে দিয়েছিলেন। সেখান থেকে তিনি যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন তা এককথায় অকল্পনীয়।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যাট খুলুন
1
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান
হেলো, 👋
natun.in আপনাকে কিভাবে সহায়তা করতে পারে?