অনলাইন ডেস্ক, ১৯ ডিসেম্বর।। জম্মু-কাশ্মীরের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ফারুক আবদুল্লার বিপুল টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করল ইডি। জম্মু ও কাশ্মীর ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের তহবিল তছরুপ মামলায় ফারুকের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। শনিবার আর্থিক প্রতিরোধ দমন আইনে ফারুক আবদুল্লার মোট ১১.৮৬ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি। এদিনের ঘটনায় ফের একবার বিপদে পড়লেন জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক। ২০১৯-এর ৫ আগস্ট কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার করা হয়েছিল। ওই আইন প্রত্যাহার করার ঠিক আগেই ফারুক-সহ জম্মু ও কাশ্মীরের একাধিক নেতাকে বন্দি করা হয়।
চলতি বছরের মাঝামাঝি মুক্তি পেয়েছিলেন ফারুক। এনফর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট ফারুকের যে সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে সেগুলি শ্রীনগর ও জম্মুতে। বাজেয়াপ্ত করা সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে ফারুকের বাড়ি বেশ কিছু বাণিজ্যিক সম্পত্তি এবং তিনটি জমি। বর্তমানে যার বাজার মূল্য বেশ কয়েক কোটি টাকা। উল্লেখ্য, জম্মু-কাশ্মীরের ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের আর্থিক তছরুপের মামলায় একাধিকবার জেরা করা হয়েছে এই প্রবীণ নেতাকে। শেষবার তাঁকে অক্টোবর মাসে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হয়েছিল। কিন্তু আর্থিক তছরুপের ঘটনায় সন্তোষজনক উত্তর দিতে না পারার জন্যই এদিন তাঁর বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। ফারুকের ছেলে জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা যথারীতি এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে জানিয়েছেন।
ওমর বলেছেন, কেন্দ্রের বিরোধিতা করার জন্যই এভাবে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে কাজে লাগানো হয়েছে। নরেন্দ্র মোদি সরকার কাশ্মীরের উপর থেকে বিশেষ মর্যাদা তুলে নেওয়ার বিরোধিতা করেছিলেন আমার বাবা। সে কারণেই তাঁকে বারবার হেনস্থা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ইডির দাবি, ২০০২ থেকে ২০১১ পর্যন্ত ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড জম্মু-কাশ্মীর ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনকে ১১৩ কোটি টাকা দিয়েছিল। রাজ্যের ক্রিকেটের উন্নয়নের জন্য ওই টাকা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ওই টাকার মধ্যে ৪৩.৬৯ কোটি টাকা অন্যায়ভাবে বের করে নেওয়া হয়েছিল। ক্রিকেটের উন্নয়নের কোনও কাজে ওই টাকা লাগানো হয়নি। সে কারণেই জম্মু-কাশ্মীর ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের কর্তাদের বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপের মামলা দায়ের হয়।