অনলাইন ডেস্ক, ১৮ ডিসেম্বর।। বই সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু। আর সেই বইয়ের বিষয়বস্তু যদি হয় অনেক গভীর, তা হলে তো কথাই নেই। পাঠকের মনে তা এনে দিতে পারে নতুন ভাবনা। তৈরি করতে পারে পৃথিবী দেখার নতুন দৃষ্টিভঙ্গি। বই কীভাবে চিন্তাজগতে প্রভাব ফেলে সম্প্রতি এক প্রবন্ধে তা তুলে ধরেছেন যুক্তরাষ্ট্রের টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মারিয়ানে উলফ। হাজির করেছেন চমকপ্রদ স্নায়ুতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা। আইএনসিডট ম্যাগাজিনে প্রকাশিত ওই প্রবন্ধে বলা হয়, যখন আমরা কোনো বইয়ে গভীরভাবে ডুবে থাকি তখন মস্তিষ্ক কেবল শব্দই গ্রহণ করে না, সঙ্গে গল্পের দৃশ্যও ভেসে ওঠে।
মনে জাগে একইরকম অনুভূতি। যেমন বইয়ে সাঁতারের বর্ণনা পড়ার সময় নিজে জলে না নামলেও মস্তিষ্ক ঠিকই গভীর পানিতে সাঁতরে বেড়ায়। এক গবেষণা উদ্ধৃত করে শিশুবিকাশ বিভাগের শিক্ষক ও পাঠ বিশেষজ্ঞ উলফ লিখেন, যখন কোনো গল্পে আমরা নিবিড়ভাবে মনোযোগী হই, আমাদের মস্তিষ্কের কিছু অংশ সক্রিয়ভাবে চরিত্রের কাজ ও অনুভূতিতে একাত্ম হয়ে যায়। যেমন, লিও তলস্তয় পাঠকালে আনা কারেনিনা যখন রেললাইলে লাফালাফি করে মস্তিষ্কের একটি অংশও তার সঙ্গে যোগ দেয়। রেশমি পোশাক বা খসখসে পাতার কাহিনী পড়ার সময় মস্তিষ্কে একইরকম সংবেদনশীলতা কাজ করে। অর্থাৎ আমাদের মস্তিষ্ক অবিকলভাবে গল্পের চরিত্রকে অনুকরণ করে।
ফলে আমরা শুধু বই পড়ি না, অন্যরকম স্নায়বিক মাত্রায় পৌঁছে যাই। তবে কেবল পাতা উল্টিয়ে গেলে বা অনেক বই খুলে রেখে একটিতে চোখ বোলালেই মস্তিষ্ক একইভাবে সাড়া দেয় না। যাচ্ছেতাই পাতা উল্টে যাওয়া পাঠক আর মনোযোগী পাঠকের প্রতিক্রিয়া তাই একেবারেই ভিন্ন। বই পড়ার যে অনাবিল আনন্দ তা পেতে হলে তাই সব বিক্ষিপ্ত ভাবনা ও যন্ত্র একপাশে সরিয়ে রেখে গভীরভাবে মনোযোগ দিন।