অনলাইন ডেস্ক, ১৮ ডিসেম্বর।। দিনরাতের গোলাপি বলে টেস্ট শুরু হওয়ার আগে অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন ক্রিকেটার থেকে শুরু করে প্রচারমাধ্যম জানিয়ে দিয়েছিল, অ্যাডিলেডে অনেক এগিয়ে থেকে খেলতে নামবেন টিম পেন-রা। কিন্তু শুক্রবার দ্বিতীয় দিনের শেষে ছবিটা কিন্তু আমূল পাল্টে গেল। রবিচন্দ্রন অশ্বিন, উমেশ যাদব এবং যশপ্রীত বুমরা, ভারতীয় বোলিংয়ের তিন তারকাই শেষ করে দিলেন অস্ট্রেলিয়াকে। দিনের শেষে ভারত এগিয়ে রয়েছে ৬২ রানে।শুক্রবার ভারতের প্রথম ইনিংস শেষ হয়ে যায় মাত্র ২৪৪ রানে। তার পরে অনেকেই ভাবতে শুরু করেছিলেন, এত কম রান নিয়ে কোহলিদের পক্ষে ম্যাচে লড়াই করা কঠিন হয়ে পড়বে।
সেই ভাবনা ভ্রান্ত প্রমাণ করে পাল্টা আক্রমণে ভারতীয় বোলাররা ম্যাচ নিয়ে ফেলেন নিয়েদের হাতে। দুই নতুন ওপেনার ম্যাথু ওয়েড এবং জো বার্নসকে ফিরিয়ে প্রথম ধাক্কাটা দেন বুমরা। প্রথম ইনিংসে এক উইকেট পেলেও অস্ট্রেলীয় অফস্পিনার নেথান লায়ন দেখিয়ে দিয়েছিলেন, উইকেট থেকে পর্যাপ্ত বাউন্স আদায় করা সম্ভব। সেটা নজরে রেখেই স্পিনের ভেল্কি শুরু করে দেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। দিনের শেষে তাঁর নামের পাশে লেখা ৫৫ রানে ৪ উইকেট।
পিঠে ব্যথা নিয়ে খেলতে নামা স্টিভ স্মিথ যে আদৌ স্বচ্ছন্দে নেই, তা প্রমাণ হয়ে যায় ২৯ বল খেলে মাত্র ১ রানে ফেরার মধ্যেই। তাঁকেও স্পিন-ইন্দ্রজালে বোকা বানান অশ্বিন।একটা সময় ৭৯ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারানো অস্ট্রেলিয়া প্রবল চাপে পড়ে যায়। সেই পরিস্থিতি থেকে দলকে টেনে তোলার দায়িত্ব নেন মার্নাস লাবুশেন। তিনি ৪৭ রান করেন। তবে এই রানও পেতেন না তিনি।
তাঁর সহজ দুটি ক্যাচ হাতছা়ড়া করেন যশপ্রীত বুমরা এবং পৃথ্বী শ। বিশেষ করে, পৃথ্বী যে ক্যাচ হাতছাড়া করেন তা দেখে মাথায় দিয়ে ফেলেন কোহলিও। তবে মহম্মদ শামির পরিবর্তে উমেশ যাদবকে এনে ম্যাচ ফের হাতে নিয়ে নেন কোহলি। ৪০ রান দিয়ে তিনি তিন উইকেট নিয়েছেন। তারই মধ্যে লড়াই করার চেষ্টা করেন অধিনায়ক টিম পেন। তিনি ৯৯ বলে ৭৩ রানে অপরাজিত থাকেন। ৭২.১ ওভারের মধ্যেই অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস শেষ হয়ে যায় ১৯১ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ভারতের স্কোর ১ উইকেটে ৬।
প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যর্থ পৃথ্বী। এবার তাঁর উইকেট নিয়েছেন প্যাট কামিন্স। শুভমন গিল, কে এল রাহুলের মতো ব্যাটসম্যানদের সুযোগ না দিয়ে পৃথ্বীর নির্বাচন যে মোটেও ঠিক হয়নি, এখন হয়তো তা অনুভব করছেন বিরাট। ম্যাচ যে দিকে এগোচ্ছে, তাতে ফয়সালা নিশ্চিত। শনিবার ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের উপরেই নির্ভর করছে, তারা কতটা বেশি রান তুলে অস্ট্রেলিয়া শিবিরে ফের আক্রমণ করতে পারেন।