স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ১৭ ডিসেম্বর।। রাজ্যে ৩১তম শিল্প ও বাণিজ্য মেলা আগামী ২৯ জানুয়ারি, ২০২১ থেকে হাঁপানিয়াস্থিত আন্তর্জাতিক মেলা প্রাঙ্গণে শুরু হবে৷ চলবে ১১ ফেবয়ারি, ২০২১ পর্যন্ত৷ আজ সচিবালয়ের ২ নং কনফারেন্স হলে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক প্রস্তুতি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়৷ সভায় মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভোকাল ফর লোকাল আহ্বানে সাড়া দিয়ে রাজ্যে স্থানীয় পণ্য সামগ্রীর উৎপাদন বাড়াতে গুরুত্ব আরোপ করেন৷
মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যে বাঁশের বোতল, ফুলঝাড়, সুুপারির খোল থেকে থালা ও বাটির উৎপাদন বৃদ্ধি করতে পরামর্শ দেন৷ শিল্প ও বাণিজ্য মেলাকে ব্যবসার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে রাজ্যে শিল্পের প্রসারের কাজে লাগাতে পরিকল্পনা নেওয়ার উপর মুখ্যমন্ত্রী গুরুত্ব আরোপ করেন৷ সরকার রাজ্যে বাঁশবেত শিল্পের উন্নয়নে গুরুত্ব দিয়েছে৷ তার বাজারজাতকরণেরও ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার৷ সভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের বিকাশে নতুন চিন্তাধারা নিয়ে শিল্প উদ্যোগীদেরও শিল্পের উন্নয়নে এগিয়ে আসতে হবে৷ বাঁশের বোতল তৈরি করলে দেশে ভালো বাজার পাওয়া যাবে৷
বাঁশের বোতল রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দেওয়া হয়েছে৷ দেশে রাজ্যের উৎপাদিত বাঁশের বোতলের বিক্রিও বাড়বে৷ উন্নতমানের বাঁশের বোতল তৈরি করতে পারলে লাভবান হবেন শিল্প উদ্যোগীরা৷ নিত্য নতুন সামগ্রী উৎপাদনে কুটির শিল্পীদের মনোসংযোগ করতে হবে৷ তবেই রাজ্যের আর্থসামাজিক মান আরও উন্নত হবে৷ সভায় মুখ্যমন্ত্রী শ্রীদেব ত্রিপুরায় তৈরি বাঁশের ফুলঝাড়কে আগামী ২৬ জানুয়ারি দিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রদর্শনীতে অন্তর্ভক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে উদ্যোগ নিতে বলেন৷ তিনি এবারের শিল্প ও বাণিজ্য মেলায় বাঁশভিত্তিক থিম রাখার পরামর্শ দেন৷
সভায় মেলার সার্বিক ব্যবস্থাদি সম্পর্কে বিশদভাবে আলোকপাত করেন শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত সচিব কিরণ গিত্যে৷ তাছাড়া আলোচনায় অংশ নেন পশ্চিম ত্রিপুরা জিলা পরিষদের সভাধিপতি অন্তরা সরকার দেব, ত্রিপুরা শিল্প উন্নয়ন নিগমের চেয়ারম্যান টিংকু রায়, ত্রিপুরা খাদি ও গ্রামোদ্যোগ পর্ষদের চেয়ারম্যান রাজীব ভ-াচার্য, ত্রিপুরা চা উন্নয়ন নিগমের চেয়ারম্যান সন্তোষ সাহা, ত্রিপুরা হস্ততাঁত ও হস্তকারু উন্নয়ন নিগমের চেয়ারম্যান বলাই গোস্বামী, অল ত্রিপুরা মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তুষারকান্তি চক্রবর্তী, সাধারণ সম্পাদক সুুজিত রায়, মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান সচিব জে কে সিনহা প্রমুখ৷
তাছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুরনিগমের মেয়র ড. প্রফুল্লজিৎ সিনহা, শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের অধিকর্তা রাভেল হেমেন্দ্র কুমার, ত্রিপুরা ইনফরমেশন কমিশনের সচিব মানিক লাল দাস, তথ্য ও সংস্ক’তি দপ্তরের অধিকর্তা রতন বিশ্বাস, বি এস এফ, পুলিশ ও বিভিন্ন দপ্তরের পদস্থ কর্মকর্তাগণ৷ ৩১তম শিল্প ও বাণিজ্য মেলাকে সুুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবকে চেয়ারম্যান ও শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের অধিকর্তা রাভেল হেমেন্দ্র কুমারকে সদস্য সচিব করে ৭০ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে৷ তাছাড়াও ৯টি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে৷