অনলাইন ডেস্ক, ১৭ ডিসেম্বর।। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার বা নবান্নের আপত্তিকে নস্যাৎ করে কেন্দ্র শেষ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের তিন আইপিএস অফিসারকে তুলে নিচ্ছে। ওই তিন অফিসারকে কেন্দ্রীয় ডেপুটেশনে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, মমতা সরকারকে কঠিন চাপের মধ্যে ফেলতেই তিন পুলিশ অফিসারকে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। যথারীতি কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।প্রেসিডেন্সি রেঞ্জের ডিআইজি পদে কর্মরত প্রবীণ ত্রিপাঠিকে সশস্ত্র সীমা বল বা এসএসবিতে পাঁচ বছরের জন্য ডেপুটেশনে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রবীণকে এসএসবির ডিআইজি পদে বদলি করা হয়েছে। এডিজি দক্ষিণবঙ্গ রাজীব মিশ্রকে ইন্দো-টিবেট বর্ডার পুলিশের আইজি পদে নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁকেও পাঁচ বছরের জন্য ডেপুটেশনে পাঠানোর নির্দেশ জারি হয়েছে।
অন্যদিকে ডায়মন্ড হারবারের পুলিশ সুপার ভোলানাথ পান্ডেকে ব্যুরো অব পুলিশ রিসার্চ বা বিপিআর-এ পাঠানো হয়েছে। ভোলানাথের ডেপুটেশনের মেয়াদ অবশ্য তিন বছর। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার বিজেপি সভাপতি জে পি নাড্ডা ডায়মন্ড হারবারের এক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়েছিলেন। নাড্ডার নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দায়িত্ব ছিল এই তিন আইপিএস অফিসারের উপর। কিন্তু পুলিশি নিরাপত্তা এড়িয়ে নাড্ডার কনভয়ে হামলা হয়।
ওই ঘটনায় কেন্দ্রের কোপে পড়েন ওই তিন আইপিএস অফিসার। ঘটনার দু’দিনের মধ্যেই ওই তিন আইপিএস অফিসারকে কেন্দ্রীয় ডেপুটেশনের নির্দেশ দেয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। যদিও কেন্দ্রের নির্দেশে তীব্র আপত্তি তুলেছিল নবান্ন। চারদিন আগে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে একটি চিঠি দিয়ে বলা হয়, ওই তিন অফিসারকে ছাড়া যাবে না। কিন্তু নবান্নের আপত্তি শেষ পর্যন্ত উড়িয়ে দিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সেন্ট্রাল সার্ভিসেস রুল ৬ (১) ধারা অনুযায়ী কেন্দ্রের অধিকার আছে কেন্দ্রীয় ক্যাডারের অফিসারদের বদলি করার। সেই নিয়ম মেনেই ওই তিন অফিসারকে বদলি করা হয়েছে। তবে ওই তিন আইপিএস অফিসার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা করতে পারেন।
সেই অধিকার তাঁদের আছে। তবে ওই তিন অফিসার আদালতের দ্বারস্থ হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকও আইনি পথেই হাঁটবে বলে খবর। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এই কড়া অবস্থানের ফলে কেন্দ্র ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
এর আগে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন, আইপিএস ও আইএস অফিসারদের ভয় দেখানোর চেষ্টা হচ্ছে। তবে অমিত শাহ বা তাঁর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক কখনওই আইনের উর্ধে নয়। কেন্দ্র বাংলায় জরুরি অবস্থা জারির চেষ্টা চালাচ্ছে।