অনলাইন ডেস্ক, ১৭ ডিসেম্বর।। গভীর রাত পর্যন্ত ঘুম না আসা, কিছুক্ষণ পরপর ঘুম ভেঙ্গে যাওয়া, রাতে ঘুম হয় না কিন্তু সারাদিন ঘুমঘুম ভাব থাকে- ঘুমের এমন নানা সমস্যায় ভোগেন অনেকে। আসলে ঘুমেরও একটি ছন্দ আছে। এই ছন্দ ব্যাহত হলে শারীরিক, মানসিক নানা সমস্যা দেখা দেয়। পর্যাপ্ত ঘুম শুধু শরীর নয়, মনও ভালো রাখতে সহায়তা করে। চিকিৎসকদের মতে, একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের দৈনিক ৭ থেকে ৮ ঘন্টা ঘুমানো দরকার। সম্প্রতি একটি গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘদিন যারা অনিদ্রায় ভোগেন তারা নানারকম শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হন। এমনকি তাদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতাও কমে যায়। বিচারবুদ্ধি ঠিক থাকে না। পর্যাপ্ত ঘুমের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে গবেষণা কী বলছে, দেখে নেওয়া যাক-
ক্ষতিকর উপাদান দূর করতে- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং সারাদিন প্রচুর কাজ করতে পারার সক্ষমতা তৈরি করে রাতের ঘুম। রাতে ভালো ঘুম হলে নতুন উদ্দীপনা নিয়ে পরেরদিনের জন্য প্রস্তুত হওয়া যায়। এছাড়া হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে পর্যাপ্ত ঘুম জরুরী। গবেষণার ফলাফল বলছে, স্নায়ুতন্ত্র সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত ঘুম দরকার। প্রতিদিন সাত থেকে আট ঘন্টা ঘুমালে প্রাকৃতিকভাবে শরীর থেকে ক্ষতিকর উপাদান বের হয়ে যায়। ফলে রোগ-ব্যাধি বাসা বাঁধতে পারে না।
মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে- মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে ঘুমের বিকল্প নেই। পর্যাপ্ত ঘুমালে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়। যারা দীর্ঘদিন ধরে অনিদ্রায় ভুগছেন, একটা সময়ের পর তাদের বিচারবুদ্ধি কমে যায়। আত্মনিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা হারিয়ে যায়। কারণ সঠিক সময়ে সঠিক বার্তা দিতে ব্যর্থ হয় মস্তিষ্ক। ফলে নিজের দক্ষতাগুলো হারিয়ে যেতে থাকে।
ভিন্ন একটি গবেষণার ফলাফল- ইতালীর পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল চিকিৎসক কয়েকটি ইঁদুরের ওপর গবেষণা চালিয়ে পর্যাপ্ত ঘুমের গুরুত্ব নিরূপন করেছেন। এজন্য তারা কয়েকটি ইঁদুরকে তিনটি দলে বিভক্ত করেন। একদল ইঁদুর ইচ্ছামতো ঘুমাতো। আর একদল ইঁদুরকে তারা বেশি ঘুমাতে দিত না। অপর ইঁদুরের দলকে একেবারেই ঘুমাতে দেওয়া হয়নি। ৫ দিন পর দেখা গেল, না ঘুমানো ইঁদুরের দল অত্যন্ত নাজেহাল হয়ে পড়েছিল। এই তিন দলের ইঁদুরের দৌঁড়ানো বা চলাফেরার মাত্রা পরীক্ষা করে দেখা গেল, বেশি ঘুমানো ইঁদুরের দলই সবচেয়ে ভালোভাবে দৌঁড়াতে পারছে।
ঘুমেই তাজা হয় মস্তিষ্ক- ঘুম হলো মস্তিষ্কের প্রাকৃতিক খাবার। পর্যাপ্ত ঘুম হলে মস্তিষ্ক সুস্থ থাকে। কাজে মনোযোগ ও উদ্দীপনা বাড়ে।