অনলাইন ডেস্ক, ১৭ ডিসেম্বর।। চিকিৎসক কাফিল খানের বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে মামলা করা যাবে না। বৃহস্পতিবার এক নির্দেশে এই কথা জানাল সুপ্রিম কোর্ট। এর আগে এলাহাবাদ হাইকোর্ট কাফিল খান সম্পর্কে একই নির্দেশ জারি করেছিল। এদিন শীর্ষ আদালত হাইকোর্টের নির্দেশই বহাল রাখে।
শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদে এদিন বলেন, জাতীয় নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে ভাষণ দেওয়ার জন্য কখনওই একজনের বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইন চাপিয়ে দেওয়া ঠিক সিদ্ধান্ত নয়। মামলার গুরুত্ব অনুধাবন করে এলাহাবাদ হাইকোর্ট ঠিক নির্দেশেই দিয়েছে। তাই হাইকোর্টের আদেশের ওপর হস্তক্ষেপ করার কোনও প্রয়োজন নেই।
এলাহাবাদ হাইকোর্ট যে নির্দেশ জারি করেছিল এদিন সুপ্রিম কোর্ট তা বহাল রাখায় ফের একবার বড়সড় ধাক্কা খেল উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকার। কার্যত চিকিৎসক কাফিল খান ইস্যুতে মুখ পুড়ল যোগী সরকারের। আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে বক্তৃতা দেওয়ার কারণে ২৯ জানুয়ারি মুম্বই থেকে চিকিৎসক কাফিল খানকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
মুম্বই পুলিশ এর সাহায্যে বিমানবন্দর থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করেছিল উত্তরপ্রদেশে পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। এরপরই কাফিলের বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করা হয়। জাতীয় নিরাপত্তা আইনে কাউকে গ্রেফতার করা হলে তাকে যতদিন খুশি আটকে রাখা যায়।
এমনকি, ধৃতকে কেন আটক করা হয়েছে সেটা জানানোর দায় থাকে না পুলিশের। তবে বন্দি অবস্থায় হাইকোর্টের উপদেষ্টা বোর্ডের কাছে আবেদন জানাতে পারেন ওই ব্যক্তি। কিন্তু কোনও আইনজীবী নিয়োগ করার অধিকার থাকে না। কিছুদিন পর এলাহাবাদ হাইকোর্টের একটি আবেদন করে কাফিলের পরিবার।
পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় জেলের ভিতরে চলছে তীব্র শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার। টানা পাঁচদিন তাঁকে খেতে দেওয়া হয়নি। ১ সেপ্টেম্বর এলাহাবাদ হাইকোর্ট কাফিল খানের গ্রেফতারকে বেআইনি কাজ বলে উল্লেখ করে।
এমনকি, তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। হাইকোর্টের নির্দেশে ছাড়া পান কাফিল। কিন্তু হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে যোগী সরকার। যদিও সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের রায় বহাল রাখায় যোগী সরকার ফের একবার অপদস্থ হল।