স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ১৭ ডিসেম্বর।। ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদ পরিচালিত ২০২১ সালের মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, মাদ্রাসা আলিম ও মাদ্রাসা ফাজিল পরীক্ষায় কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে৷ আজ সচিবালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই পরীক্ষাগুলির প্রযোজ্য নূতন নিয়মাবলী বিশদভাবে তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথ৷ তিনি জানান, সম্পতি ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদের গভর্নিংবডির সভায় এ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে৷ শিক্ষামন্ত্রী এই গভর্নিংবডির সভায় উপস্থিত ছিলেন৷ সাংবাদিক সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী জানান, ২০২১ সালের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা নতুন সিলেবাসে অনুষ্ঠিত হবে৷
কোভিড-১৯ এর কারণে সিলেবাস ৩০ শতাংশ কম করা হবে৷ এর ভিত্তিতেই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে৷ তবে পুরনো সিলেবাসের পরীক্ষার্থীরা সম্পর্ণ সিলেবাসের ভিত্তিতেই পরীক্ষা দেবে৷ মাধ্যমিক পরীক্ষায় নতুন সিলেবাসে যারা পরীক্ষা দেবে তাদেরকে পাশ করার জন্য লিখিত পরীক্ষা ও ইন্টারন্যাল অ্যাসেসমেন্ট মিলে ৩৩ শতাংশ নম্বর পেতে হবে৷ পুরাতন সিলেবাসের পরীক্ষার্থীদের এক্ষেত্রে পাশ নম্বর ৩০ শতাংশ৷ মাধ্যমিকের অংক বিষয়ে (নতুন সিলেবাস) দু’ধরণের প্রশ করা হবে৷ বেসিক ও স্ট্যাণ্ডার্ড৷ অপেক্ষাক’ত সহজ বেসিক নিয়ে পাশ করলে ঐ ছাত্রছাত্রী একাদশ শ্রেণীতে অংক বিষয় নিয়ে পড়তে পারবেনা৷ কোন ছাত্র বা ছাত্রী বেসিক অংক নিয়ে মাধ্যমিক পাশ করার পর যদি মনে করে একাদশ শ্রেণীতে অংক নিয়ে পড়বে তবে বছর বাঁচাও এর মাধ্যমে তাকে স্ট্যাণ্ডার্ড অংক বিষয়ে অবশ্যই পাশ করতে হবে৷ শিক্ষামন্ত্রী জানান, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের পরামর্শ নিয়েই ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷
শিক্ষামন্ত্রী জানান, মাধ্যমিকে দু’ধরণের ষষ্ঠ বিষয় নেওয়া যাবে ল্যাঙ্গয়েজ ও নন ল্যাঙ্গয়েজের মধ্য থেকে৷ নন ল্যাঙ্গয়েজে ১৫টি ভোকেশনাল বিষয় রয়েছে৷ কোন ছাত্রছাত্রীর যদি মাধ্যমিক পরীক্ষায় ষষ্ঠ বিষয় হিসাবে ভোকেশনাল বিষয় থাকে এবং নন ল্যাঙ্গয়েজ বিষয় যেমন অংক, সমাজবিদ্যা, বিজ্ঞান এর মধ্যে কোন একটিতে ফেল করে তবে পাশ করার ক্ষেত্রে ঐ বিষয়ের পরিবর্তে ভোকেশনাল বিষয়ে পাশ করলেও পাশ হিসাবে গণ্য করা হবে৷ আবার কোন ছাত্রছাত্রী যদি মাধ্যমিক পরীক্ষায় ষষ্ঠ বিষয় হিসাবে ল্যাঙ্গয়েজ বিষয় আরবিক, বাংলা, হিন্দি, ককবরক, মিজো, পালি, সংস্ক’ত নেয় তবে এবং ল্যাঙ্গয়েজ ওয়ান এর কোন একটিতে ফেল করে তবে ষষ্ঠ বিষয়ের নম্বর পাশ করার ক্ষেত্রে গণ্য করা হবে৷ তবে পাশ করার ক্ষেত্রে ইংরেজী বিষয়ে অবশ্যই পাশ করতে হবে৷
শিক্ষামন্ত্রী জানান, উচ্চ মাধ্যমিকের নতুন সিলেবাসে পাশ করার জন্য পরীক্ষার্থীকে লিখিত পরীক্ষা, ইন্টারন্যাল অ্যাসেসমেন্ট ও প্র্যাকটিক্যাল মিলে পৃথকভাবে ৩৩ শতাংশ নম্বর পেতে হবে৷ পুরাতন সিলেবাসে ৩০ শতাংশই পাশ নম্বর৷ উচ্চমাধ্যমিকের নন প্র্যাকটিক্যাল বিষয়ে ইন্টারন্যাল মার্কস ১০-এর পরিবর্তে ২০ হবে৷ শিক্ষামন্ত্রী জানান, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক উভয় ক্ষেত্রেই সকল বিষয়ে দুই সেট প্রশ করা হবে৷ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক উভয় ক্ষেত্রেই প্রিবোর্ড পরীক্ষা নেওয়া হবে৷ এর ফলাফলের ভিত্তিতে কোন ছাত্রছাত্রীকে ফাইন্যাল পরীক্ষায় বসা থেকে বিরত রাখা যাবেনা৷
তিনি জানান, করোনা পরিস্থিতির কারণে ২০২১ সালের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় বিদ্যালয়ে নূ্যনতম উপস্থিতিও বাধ্যতামূলক থাকবেনা৷ বিদ্যালয়ে উপস্থিতি থেকে ইন্টারন্যাল অ্যাসেসমেন্টে কোন নম্বারও দেওয়া হবেনা৷ মাধ্যমিকের ইন্টারন্যাল অ্যাসেসমেন্ট নম্বর ২০ এর মধ্যে প্রিবোর্ড পরীক্ষা থেকে ১০, সাপ্তাহিক পরীক্ষা থেকে ৫ এবং এসাইনমেন্ট থেকে ৫ নম্বর ধার্য করা হয়েছে৷ উচ্চ মাধ্যমিকের নন প্রেকটিক্যাল বিষয়েও অনুরূপভাবে ইন্টারন্যাল অ্যাসেসমেন্ট এর নম্বর ধার্য করা হবে৷ উচ্চমাধ্যমিকের প্র্যাকটিক্যাল বিষয়ে অ্যাকচুয়েল এক্সপেরিমেন্টে ২০, নোটবুকে ৫ এবং প্রিবোর্ড পরীক্ষায় ৫ নম্বর ধার্য থাকবে৷