কোথাও চা খেতে গেলেই প্রশ্ন আসে, লাল চা নাকি দুধ চা?

অনলাইন ডেস্ক, ১৫ ডিসেম্বর।। একটু অবসরে কিংবা কাজের ফাঁকে এক কাপ চা না হলে মনটা ফুরফুরে থাকে না। চা পান যাদের নেশা, তাদের কাছে চা যেন এক অমৃত পানীয়। ঘর কিংবা অফিসের বাইরে কোথাও চা খেতে গেলেই প্রশ্ন আসে, লাল চা নাকি দুধ চা? চিনি কম নাকি বেশি? দুধ চা শরীর জন্য ক্ষতিকর; আমরা সবাই তা জানি। কিন্তু ক’জনে মানি? চা’য়ে চিনি কম খাওয়াই ভালো, তাও জানি। কিন্তু মানি ক’জনে? চা যদি খেতেই হয় তবে লেবু দিয়ে লাল চা বা লিকার চা খান। কেন খাবেন? চলুন জেনে নিই লেবু চা খেলে কী হয়—শুনতে অবাক লাগলেও মস্তিষ্ক থেকে শুরু করে শরীরের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কর্মক্ষমতা বাড়াতে লেবু চায়ের কোনো বিকল্প হয় না বললেই চলে।

আসলে লেবুতে থাকা একাধিক কার্যকরী উপাদান আমাদের শরীরে প্রবেশ করা মাত্রই কাজ করতে শুরু করে। ফলে দেহের সচলতা বৃদ্ধি পেতে থাকে ধীরে ধীরে। খাবার খাওয়াসহ নানাভাবে নানা ক্ষতিকর উপাদান আমাদের শরীরে প্রবেশ করেছে। রক্তে মিশতে থাকা এসব টক্সিক উপাদান শরীরের জন্য একেবারেই ভালো নয়। এ বিষয়ে সাবধান থাকাটা আমাদের জরুরি। ভাবছেন কী করবেন? দিনে কমপক্ষে দুই কাপ লেবু চা খাওয়ার অভ্যাস করুন, তাহলেই এ সমস্যার সমাধান পাবেন। কারণ লেবু চা টক্সিক উপাদানকে শরীর থেকে দ্রুত বের করে দেহের ভেতর থেকে পরিষ্কার করে তুলতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। ঠাণ্ডা লেগেছে? নাক দিয়ে পানি পড়ছে? আদা দিয়ে গরম লেবু চা খান। দিনে কমপক্ষে ৩ কাপ খান। উপকার পাবেন। কারণ লেবু আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। সেই সাথে ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া প্রকোপ কমিয়ে এ ধরনের শারীরিক সমস্যা দূরে রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। লেবু চা খেলে মানসিক চাপ কমে।

শুনে অবাক হচ্ছেন? অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ শরীরের রক্তে উপস্থিত টক্সিক উপাদান বের করতে বিশেষ ভূমিকা রাখে লেবু। দেহে টক্সিনের মাত্রা যতো কমতে থাকে, মস্তিষ্ক ততো চনমনে হয়ে ওঠে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই স্ট্রেস লেভেল কমতে শুরু করে।মলিকিউলার নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড রিসার্চের প্রতিবেদন বলছে, লেবুতে উপস্থিত ফ্লেবোনয়েড রক্তে লিপিডের পরিমাণ কমায়, সেই সাথে আর্টারিতে যাতে কোনোভাবেই ব্লাড ক্লট না করে সেদিকেও খেয়াল রাখে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই নানাবিধ হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে যায়। লেবুতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিভাইরাল প্রপার্টিজ রয়েছে, যা নানাবিধ সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচাতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

তাই যারা মাঝেমাঝেই ব্যাকটেরিয়াল অথবা ভাইরাল ইনফেকশনের শিকার হয়ে থাকেন, তারা নিয়মিত লেবু চা খাওয়ার অভ্যাস করুন। উপকার পাবেন। লেবুতে থাকা সাইট্রিক অ্যাসিড হজমে সহায়তা করে থাকে। এছাড়া কিডনি স্টোনে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও কমায়। লেবুর উপকারিতা এখানেই শেষ নয়, খাবারে থাকা নানা পুষ্টিকর উপাদান যাতে শরীরে ঠিকমতো কাজ করতে পারে সেদিকেও খেয়াল রাখে লেবু চা। জার্নাল অব এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড ফুড কেমিস্ট্রির গবেষণা বলছে, লেবুর রস আমাদের শরীরে প্রবেশ করা মাত্রই ইনসুলিনের অ্যাকটিভিটি বেড়ে যায়। ফলে শর্করা ভেঙে এনার্জির ঘাটতি পূরণ হয়। নিয়মিত লেবু চা খেলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে যায়।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যাট খুলুন
1
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান
হেলো, 👋
natun.in আপনাকে কিভাবে সহায়তা করতে পারে?