অনলাইন ডেস্ক, ১৬ ডিসেম্বর।। হংকং নীতি নিয়ে সম্প্রতি ‘পাঁচ চোখের’ করা সমালোচনায় চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান নির্দেশিত ওই প্রতিক্রিয়ায় চীন ‘নিষ্ঠুর হাসি’ দিলেও মনে করা হচ্ছে, ‘পাঁচ চোখের’ সমালোচনায় তারা চাপ অনুভব করছে।তাইওয়ানের সংবাদমাধ্যম দ্য তাইওয়ান টাইমসর খবরে বলা হয়, গত ১৮ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, নিউজিল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রীরা হংকংয়ের স্বায়ত্তশাসনে বেইজিংয়ের ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে তাদের অভিমত ব্যক্ত করেন।
‘ফাইভ আইস’ বা ‘পাঁচ চোখ’ হিসেবে পরিচিত ইংরেজি ভাষী এ জোট হংকং বিষয়ে গোয়েন্দা প্রতিবেদন সংগ্রহ করছে এবং নিজেদের মধ্যে তা বিনিময় করছে। ওই যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, হংকংয়ে চীনা সৈন্যরা হংকং, পূর্ব তুর্কমেনিস্তান, তিব্বত, দক্ষিণ মঙ্গোলিয়া এমনকি তাইওয়ানের গণতন্ত্রকামীদের কণ্ঠরোধ করছে এবং সেখানে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে। যদিও চীনের বন্দী বিনিময় আইনের প্রতিবাদে গত বছর হংকংয়ে বিশাল আন্দোলন হয়, যাতে প্রায় ৯ লাখ আন্দোলনকারী অংশ নেন।আন্দোলনের সময় সমালোচকরা মনে করেছিলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের রেকর্ডের সঙ্গে সমালোচকদের এ সময় বিরোধীরা বিপন্ন হতে পারে।
শুধু তাই নয় হংকংয়ের বিচারিক স্বায়ত্তশাসনকে ক্ষুণ্ন হতে পারে।ওই আন্দোলন ভণ্ডল করতে চলতি বছরের ৩০ জুন জাতীয় নিরাপত্তা আইন (এনএসএল) পাস করে চীন। ওই আইনে আন্দোলনকারী সবাইকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।চীন প্রথমবারের মতো নয়, এর আগেও দুবার বিভিন্ন দেশের দেওয়া যৌথ বিবৃতিকে অবমাননা করছে। ১৯৯৭ সালে যুক্তরাজ্যের দেওয়া যৌথ বিবৃতিকে অবমানমা করেছে চীন।অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ক্যারিলামসহ সমমনাদের ওপর করা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।চীনের নতুন আইনকে হালকাভাবে নেয়নি ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।
কারণ, তারা একটি বিবৃতি প্রকাশ করে বলেছে যে, হংকংয়ে বহুত্ববাদ ও মতামতের স্বাধীনতার দিকে আঘাত সহ্য করা হবে না। চীনের সম্প্রসারণবাদী নীতি এবং নিজেদের ‘মহান শক্তি’ হিসেবে দেখায় মানবতার মৌলিক সূত্রগুলো ভেঙে পড়েছে এবং চীনের পাশাপাশি তার উপনিবেশিক অঞ্চলে মতপ্রকাশ, জীবন ও মর্যাদার স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়েছে বলে দাবি তাইওয়ানের সংবাদমাধ্যমটির।