নাগরিকত্ব প্রমাণের আগেই প্রাণ গেল ১০৪ বছরের বৃদ্ধের

অনলাইন ডেস্ক, ১৫ ডিসেম্বর।। বছর দুই আগে তাঁকে ‘বিদেশি’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছিল। ফলে তাঁকে যেতে হয়েছিল জেলে। গতবছর সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন পাস হওয়ায় জেগেছিল আশা, এবার ভারতীয় নাগরিকত্ব মিলবে। কিন্তু আশা মরীচিকা হয়েই রয়ে গেল।

ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণের আগেই ‘বিদেশি’ হয়েই মারা গেলেন অসমের ১০৪ বছরের বৃদ্ধ। মৃত বৃদ্ধের নাম চন্দ্রধর দাস। বয়সজনিত কারণে তিনি বিভিন্ন অসুখে ভুগছিলেন। সোমবার রাতে নিজের বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই প্রবীণ।

দু’বছর আগে অসমের নাগরিকত্বের তালিকা থেকে বাদ পড়েছিল চন্দ্রধরের নাম। যে কারণে তাঁকে পাঠানো হয়েছিল শিলচর জেলে। তবে ঘটনাটি নিয়ে রাজ্য জুড়ে তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়। তিন মাসের মধ্যে শতায়ু চন্দ্রধরকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে বেঁচে থাকতে তিনি নিজেকে ভারতীয় হিসেবে দেখে যেতে পারলেন না। প্রশাসনের কাছে একাধিকবার আর্জি জানিয়েও কোনও ফল হয়নি।

উল্লেখ্য, ১৯৫৫-এ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান থেকে চন্দ্রধর ভারতে চলে আসেন। ১৯৭১-এর অনেক আগেই এসেছিলেন তিনি। তাকে ভারতীয় নাগরিকত্ব না দেওয়ার কোনও কারণ ছিল না। কিন্তু ত্রিপুরায় পাওয়া শরণার্থী শংসাপত্র তিনি সেসময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দিয়ে যাচাই করিয়ে নেননি। তাতেই এই বিপত্তি। বেঁচে থাকতে নিজের ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ করতে পারলেন না তিনি।

উল্লেখ্য চন্দ্রধর ‘বিদেশি’ হওয়ায় তাঁর তিন সন্তান, নাতি-নাতনিরা ২০১৯-এ এনআরসি তালিকা থেকে বাদ পড়ে যায়। গত বছরই কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন পাস করে। সেই আইনকে বিশ্বাস ও ভরসা করেই বুক বেঁধেছিলেন চন্দ্রধর। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি আর নিজেকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে প্রমাণ করতে পারলেন না।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যাট খুলুন
1
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান
হেলো, 👋
natun.in আপনাকে কিভাবে সহায়তা করতে পারে?