করোনাজনিত পরিস্থিতিতে দেশে স্মার্টফোনের আসক্তি বেড়েছে

অনলাইন ডেস্ক, ১৫ ডিসেম্বর।। আজকের তরুণ প্রজন্ম স্মার্টফোন ছাড়া যেন চলতেই পারে না। অবসর সময় থেকে শুরু করে কাজের ফাঁকে সবসময়ই তারা স্মার্টফোন নিয়ে নাড়াঘাঁটা করে। সমীক্ষার রিপোর্ট বলছে, লকডাউন চলাকালীন ভারতীয়রা দিনে প্রায় ৭ ঘণ্টা করে স্মার্টফোন ব্যবহার করেছেন।

যার জেরে দৈনিক স্মার্টফোন ব্যবহারের হার ২৫ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। উল্লেখ্য, করোনাজনিত পরিস্থিতিতে ওয়ার্ক ফর্ম হোম, বিনোদন, পড়াশুনার ক্ষেত্রে স্মার্টফোনের ব্যবহার ছিল সবচেয়ে বেশি। তবে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের ৭০ শতাংশই মনে করছেন, অতিরিক্ত ফোন ব্যবহারে শরীর ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপর নিশ্চিতভাবেই নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। যারা বেশি পরিমাণে স্মার্টফোন ব্যবহার করেন তাঁরা ইতিমধ্যেই অনেকেই কাঁধ ও পিঠের ব্যথায় ভুগছেন।

অনেকে আবার চোখের সমস্যায় পড়েছেন। দীর্ঘক্ষণ মোবাইল ব্যবহারের ফলে অনেকের মাথা ধরা বা যন্ত্রণার মতো উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। লকডাউনের মধ্যে স্মার্টফোনের ব্যবহার বাড়ল কেন? এই প্রশ্নের উত্তরে ওই সমীক্ষা রিপোর্ট বলছে, করোনাজনিত কারণে মানুষকে সামাজিক দূরত্ব বৃদ্ধি পালন করতে হয়েছে। এই জায়গাটি দখল করেছে স্মার্টফোন। পড়াশোনা, বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে কথাবার্তা, অফিসের কাজ সবই হয়েছে স্মার্টফোনের মাধ্যমে।

স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের ৭৪ জানিয়েছেন, তাঁরা মাঝেমধ্যেই মোবাইল ফোন বন্ধ করে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে মাত্র ১৮ শতাংশ ব্যবহারকারী নিজেদের মোবাইলের সুইচ অফ রেখেছিলেন বলেই জানা গিয়েছে। চারটি মেট্রো শহর এবং আরও আটটি শহরের ১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সি ২০ হাজার মানুষের উপর সমীক্ষা চালিয়ে এই রিপোর্ট তৈরি হয়েছে।

এই সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৮৮ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা পরিবারের লোকজন বা বন্ধুদের সঙ্গে কথা বললেও তাঁদের মনোযোগ ছিল ফোনের দিকেই। ৪৬ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, তাঁরা দিনে কমপক্ষে পাঁচ বার এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ফোনে কথা বলেছেন।

অনেকেই জানিয়েছেন, স্মর্টফোন যেমন বিভিন্ন কাজের ক্ষেত্রে অনেক সুবিধা দিয়েছে, তেমনই এই ফোনের বেশ কিছু নেতিবাচক দিকও আছে। বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের উপর যে প্রভাব সবচেয়ে বেশি।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যাট খুলুন
1
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান
হেলো, 👋
natun.in আপনাকে কিভাবে সহায়তা করতে পারে?