অনলাইন ডেস্ক, ১৪ ডিসেম্বর।। কৃষক আন্দোলন নিয়ে ক্রমশই একটা বিভাজন তৈরি হচ্ছে। নরেন্দ্র মোদি সরকারের তৈরি করা তিন কৃষি আইনের বিরুদ্ধে একটানা ১৭ দিন ধরে দিল্লিতে প্রবল বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন কৃষকরা। বিক্ষোভরত কৃষকরা প্রায় সকলেই পঞ্জাব ও হরিয়ানার মানুষ। কিন্তু এই বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে এবার পাল্টা প্রতিবাদের রাস্তায় নামতে চলেছে বিভিন্ন রাজ্যের কমপক্ষে ১০ টি কৃষক সংগঠন। রবিবারই উত্তরাখণ্ডের কৃষকরা নতুন কৃষি আইনকে সমর্থন জানিয়েছিলেন। বিভিন্ন রাজ্যের ১০টি কৃষক সংগঠন নতুন কৃষি আইনকে সমর্থন করায় কেন্দ্রের পক্ষেও বিষয়টি স্বস্তিজনক বলে মনে করা হচ্ছে।
পর পর কয়েকটি রাজ্যের কৃষকরা নতুন কৃষি আইনের পক্ষে মুখ খোলায় এদিন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর বলেন, যে সমস্ত কৃষকরা আমাদের আইনটি বুঝতে পেরেছেন তাঁরা সকলেই নতুন আইনকে সমর্থন করছেন। যারা আন্দোলন করছেন তাঁরা না বুঝেই প্রতিবাদের রাস্তায় নেমেছেন। তাঁদের বোঝা উচিত, সরকার নতুন আইনে কী বলতে চেয়েছে। আসলে সরকার কৃষকদের উন্নতির জন্যই আইন করেছে।এতদিন কৃষকরা শুধু মান্ডিতে ফসল বিক্রি করতেন। কিন্তু নতুন আইনে তাঁরা যেখানে বেশি দাম পাবেন সেখানে গিয়েই ফসল বিক্রি করতে পারবেন। নতুন আইনে কৃষকদেরই লাভ।
কিন্তু তাঁরা বিষয়টি বুঝছেন না। যারা বুঝেছেন তাঁরা সকলেই একবাক্যে নতুন আইনের কার্যকারিতা মেনে নিয়ে বলেছেন, এই আইনটি সময়োপযোগী এবং প্রাসঙ্গিক। রবিবার উত্তরাখণ্ডের কৃষক নেতারা দীর্ঘক্ষণ কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গে নতুন আইন নিয়ে কথা বলেন। তাঁরা সকলেই এক কথায় নতুন আইনের কার্যকারিতা স্বীকার করে নিয়েছেন। হরিয়ানার ২৯ জন কৃষক নেতাও কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে নতুন আইনের পক্ষে মুখ খুলেছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে আলোচনায় বসেন ভারতীয় কিষাণ সংগঠনের ভানু-র সভাপতি।
রাজনাথের সঙ্গে ওই বৈঠকের পর নয়ডা-দিল্লি রাস্তা অবরোধ থেকে সরে আসার কথা ঘোষণা করেন ভানু। যদিও তাঁর এই সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজেদের সংগঠনের মধ্যে মতানৈক্য রয়েছে। অন্যদিকে সোমবার বিভিন্ন রাজ্যের ১০টি কৃষক সংগঠন দিল্লিতে কেন্দ্রের সঙ্গে বৈঠক করে। উত্তরপ্রদেশ, কেরল, হরিয়ানা, তামিলনাড়ু, তেলেঙ্গানা ও অন্ধপ্রদেশের প্রতিনিধিরা সোমবার কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী তোমার সঙ্গে দেখা করেন। তাঁরা নতুন কৃষি আইনকে সময়োপযোগী বলেও জানান। এই ১০টি সংগঠনে অল ইন্ডিয়া কিষাণ কো-অর্ডিনেশন কমিটির সঙ্গে যুক্ত।