অনলাইন ডেস্ক, ১৪ ডিসেম্বর।। উভয় পরিবারের দীর্ঘ কথাবার্তার পর বিয়ের দিন স্থির হয়েছিল হয়েছিল। করোনাজনিত পরিস্থিতিতে সব ধরনের বিধিনিষেধ মেনে বিয়ের আয়োজন করা হয়। বিয়ের জন্য পাত্রী পৌঁছে গিয়েছিলেন বরেলিতে। কিন্তু ছাদনা তলায় যাওয়ার আগেই বিপত্তি বাধল। জানা গিয়েছে পাত্রের বেশ কয়েকজন বন্ধু-বান্ধব পাত্রীকে নাচার জন্য হাত ধরে টানাটানি করে। এই ঘটনায় প্রবল ক্ষুব্ধ হয়ে পাত্রী নিজেই তাঁর বিয়ে ভেঙে দেন। বিয়ের আসর ছেড়ে ফিরে যান নিজেদের বাড়িতে। রবিবার উত্তরপ্রদেশের বরেলি জেলায় এই ঘটনা ঘটেছে। বরেলি জেলার এই পাত্র যথেষ্ট শিক্ষিত। তাঁর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি রয়েছে। পাত্রী কনৌজ জেলার বাসিন্দা। তিনিও স্নাতকোত্তর ডিগ্রীধারী।
উভয় পরিবার দেখাশোনা করে বিয়ে চূড়ান্ত করে। তবে এই বিয়েতে যে এই প্রথম বিপত্তি ঘটল এমন নয়। বিয়ের কথাবার্তা পাকা হওয়ার সময় পাত্রপক্ষের বাড়ি থেকে বিপুল পণ চাওয়া হয়। ঘটনার জেরে পাত্রীর বাবা ওই পরিবারের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পরে অবশ্য উভয় পরিবার আলাপ- আলোচনায় বিষয়টি মিটিয়ে নেয়। জানা গিয়েছে, এই মীমাংসার জন্য পাত্রের পরিবারের পক্ষ থেকে পাত্রীর পরিবারকে ছয় লক্ষ টাকা দেওয়া হয়। তবে পুলিশের কাছে আর নতুন করে কোনও অভিযোগ জানানো হয়নি। বিয়ের রাতের ঘটনার সম্পর্কে জানা গিয়েছে, ছাদনা তলায় যাওয়ার ঠিক আগে পাত্রের বেশ কয়েকজন বন্ধু পাত্রীর হাত ধরে টানাটানি করে।
পাত্রীর অভিযোগ, তাঁর হবু বরের বন্ধুরা প্রত্যেকেই মদ্যপ ছিলেন। বন্ধুরা সকলেই তাঁর সঙ্গে অত্যন্ত অশালীন আচরণ করেন। কিন্তু বন্ধুদের এই আচরণ দেখার পরেও কোন প্রতিবাদ করেননি তাঁর হবু স্বামী। এ ধরনের একজন মানুষের সঙ্গে কখনওই সারা জীবন কাটানো যায় না। সে কারণেই তিনি বিয়ে ভেঙে দিয়েছেন বলে পাত্রী জানান। মেয়ের এই সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ সমর্থন করেছেন তাঁর বাবা। পাত্রীর বাবা জানিয়েছেন, যে পুরুষ তাঁর স্ত্রীর সম্মান রক্ষা করতে পারেন না, বন্ধুদের বিরুদ্ধে কোনও প্রতিবাদ করতে পারে না এমন মানুষকে বিয়ে করা মানে নিজের জীবন নষ্ট করা। তাই আমার মেয়ে ঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছে।