অনলাইন ডেস্ক, ১৪ ডিসেম্বর।। সরকারি মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা হয়তো কৃষকদের সাময়িক বা ক্ষুদ্র স্বার্থ সিদ্ধি করতে পারে। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে সেটা সমস্যা তৈরি করে থাকে অনেক বেশি। এদেশে এ ধরনের উদাহরণ ভুরিভুরি রয়েছে। সরকার নির্ধারিত মূল্য যদি কোনও কারণে পড়ে যায় তাহলে কৃষি ক্ষেত্রে তার কী ধরনের প্রভাব পড়বে সেটা ভেবে দেখা দরকার।কয়েক দশক আগে সবুজ বিপ্লবের পর ন্যূনতম সহায়ক মূল্য ব্যবস্থা চালু হয়েছে। মনে রাখতে হবে, সবুজ বিপ্লবের সময় দেশে রাতারাতি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং সরকার চাহিদা ও যোগানের মধ্যে ভারসাম্য আনতে চেয়েছিল। সে কারণেই সে সময়ে চালু হয়েছিল ন্যূনতম সহায়ক মূল্য প্রদানের নিয়ম।
সরকারের লক্ষ্য ছিল, খোলাবাজারে বিক্রি হওয়া সমস্ত কৃষিজ উৎপাদন ন্যূনতম সহায়ক মূল্য দিয়ে চাষিদের থেকে কিনে নেওয়া। সময়ের বিচারে এক সময় এই ব্যবস্থা হয়তো উপযুক্ত ছিল। কারণ সে সময়ে কেন্দ্রই কৃষিপণ্যের সর্ববৃহৎ ক্রেতা ছিল। কিন্তু ৫০ বছর পরেও সেই ব্যবস্থা কি সময়োপযোগী, এটা ভেবে দেখা দরকার। কেন্দ্রীয় সরকার বর্তমানে ২৩ টি ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য স্থির করে। কিন্তু কোনও ক্ষেত্রেই উৎপাদিত ফসলের পুরোটা সরকার কেনে না। অন্যদিকে রাজ্য সরকারগুলিও যে কেন্দ্রের বেঁধে দেওয়া ন্যূনতম মূল্যেই কৃষকদের কাছ থেকে ফসল কিনবে তার কোনও দায়বদ্ধতা নেই। যদিও রাজ্যগুলি কেন্দ্রের ঠিক করে দেওয়া দামেই ফসল কিনে থাকে।
ফলে যে কৃষকরা অনেক বেশি পরিমাণে চাষ করেন তাঁরাই বাজারের জন্য উদ্বৃত্ত ফসল রেখে বাকিটা সরকারের কাছে বিক্রির জন্য এগিয়ে আসেন। এই সমস্যা মেটাতেই সরকার নতুন আইন করেছে। কৃষকরা যাতে নিজেরা বেসরকারি বাজার খুঁজে নিতে পারে এবং সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন করে উৎপাদিত ফসল যাতে দ্রুত এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া যায় সরকার তার ব্যবস্থা করছে। এটাই নতুন কৃষি আইনের সুফল বলে সরকারের দাবি। যদিও আন্দোলনরত কৃষকরা সরকারের কোনও কথাই মানতে রাজি নন। তাঁদের একটাই কথা, অবিলম্বে তিন কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে হবে। সরকার আইন প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত এই বিক্ষোভ আন্দোলন চলবে।