অনলাইন ডেস্ক, ১৩ ডিসেম্বর।। অস্ট্রেলিয়া ৭৫০ মিলিয়ন ডলারের একটি টিকাদান কর্মসূচি বাতিল করেছে। স্থানীয়ভাবে প্রস্তুত করা টিকার ট্রায়ালে অনেকের এইচআইভি ফলস পজিটিভ রিপোর্ট আসায় এই সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা জানিয়েছে দেশটি। দেশটির প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন শুক্রবার জানিয়েছেন, তার সরকার ৫১ মিলিয়ন ডোজের এই অর্থ ক্ষতিপূরণ হিসেবে কোম্পানিটিকে দেবে। ফলস পজিটিভের অর্থ হলো প্রকৃতপক্ষে রোগীর রোগটি না থাকলেও রেজাল্ট আসতে পারে যে-তার আছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, কুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সিটি এবং বায়োটেক কোম্পানি সিএসএলের তৈরি ভ্যাকসিনটিতে ফলস রিপোর্ট আসছে একটি প্রোটিনের দুই ক্ষুদ্রাংশ ব্যবহারের কারণে। এ ধরনের ক্ষুদ্রাংশ এইচআইভির রিপোর্ট পাওয়া যায়। প্রোটিনটি গঠিত হয়েছে আণবিক ‘বন্ধনী’ থেকে, যা গবেষকেরা করোনাভাইরাসকে ঘিরে থাকা স্পাইকের ওপর প্লেস করেন। এই স্পাইক ব্যবহার করেই মানুষের ফুসফুস আক্রমণ করে চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া নতুন ভাইরাসটি। এইচআইভি প্রোটিনের এই ব্যবহারের কারণে ট্রায়ালে অংশ নেয়া মানুষদের কোনো ক্ষতি হবে না।
কিন্তু এটি এইচআইভি দ্বারা স্বীকৃত অ্যান্টিবডি প্রত্যাশার চেয়েও বেশি হারে তৈরি করেছে। ভ্যাকসিনটি ট্রায়ালে করোনা প্রতিরোধে সক্ষমতা দেখালেও বিজ্ঞানীরা ইতিমধ্যে উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছেন। নিউইয়র্কের ইমিউনোলজিস্ট জন পি মুর বলছেন, এই ভ্যাকসিন টাকার অপচয় করেছে, মানুষের নয়। ‘আমি নিশ্চিত এর কারণে অনেক মানুষ বিব্রত। এমন ভুল দেখা স্বস্তির কিছু নয়। ’এভাবে প্রোটিন-ভিত্তিক ভ্যাকসিন আরও কয়েকটি কোম্পানি তৈরির চেষ্টায় আছে। গবেষকেরা বলছেন, তাদের জন্য অস্ট্রেলিয়া একটি বার্তা।