অনলাইন ডেস্ক, ১১ ডিসেম্বর।। নতুন কৃষি আইন নিয়ে অনড় দু’পক্ষই। কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে কৃষকরা ১৬ দিন ধরে বিক্ষোভ আন্দোলন করছেন। অন্যদিকে কিছু সংশোধনী মেনে নেওয়ার কথা জানালেও আইন প্রত্যাহার করতে রাজি নয় মোদি সরকার। এই পরিস্থিতিতে কৃষকদের উপর পাল্টা চাপ তৈরি করতে গোটা দেশের প্রতিটি জেলায় নতুন কৃষি আইনের সুফল বোঝানোর কাজে নেমে পড়ল বিজেপি। জানা গিয়েছে, দেশের প্রতিটি জেলায় কৃষি আইনের সুবিধা বোঝানোর জন্য সভা করবে বিজেপি নেতা ও কর্মীরা। শুধুমাত্র কৃষি আইন নিয়ে কথা বলতে গোটা দেশে ১০০-র বেশি সাংবাদিক বৈঠক করা হবে। সেখানে সংবাদমাধ্যমের সামনে তুলে ধরা হবে নতুন কৃষি আইনের সুফল।
পাশাপাশি শুক্রবার কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর বলেছেন, সরকার কৃষকদের যে কোনও প্রস্তাব শুনতে রাজি আছে। আমাদের তরফ থেকে এখনও আলোচনার রাস্তা খোলা রয়েছে। সাধারণ মানুষের অসুবিধার কথা মাথায় রেখে কৃষকদের উচিত, এই আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসা। যদিও মন্ত্রীর ওই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে কৃষকদের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এদিকে শুক্রবার থেকেই দেশের প্রতিটি জেলায় কৃষকদের কৃষি আইন বোঝানোর কাজে নেমে পড়েছে বিজেপি। সোশ্যাল মিডিয়াতেও চলছে নতুন কৃষি আইনের পক্ষে জোরদার প্রচার। এই কাজে বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতা ও মন্ত্রী যোগ দিচ্ছেন। বিজেপির শীর্ষ নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এদিন বলেছেন, চাষীদের সমস্যা সমাধান করতে সরকারের পক্ষে যতটা সম্ভব ততটাই করা হবে। চলতি করোনাজনিত পরিস্থিতিতে চাষীদের কাছে আমার অনুরোধ, তাঁরা দয়া করে বাড়ি ফিরে যান। তবে সরকারের সঙ্গে তাঁরা চাইলেই কথা বলতে পারেন।
সরকার কৃষি ও কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গোয়েল আরও বলেন, রাজস্থানের কৃষক বন্ধুরা ইতিমধ্যেই বুঝিয়ে দিয়েছেন নতুন কৃষি আইন তাঁদের ভালর জন্যই করা হয়েছে। সে কারণেই তাঁরা মোদি সরকারের পাশে রয়েছেন। গোয়েলের বক্তব্যে এটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, কৃষকরা যতই বিক্ষোভ আন্দোলন করুক না কেন নতুন কৃষি আইন প্রত্যাহার করবে না নরেন্দ্র মোদি সরকার। ফলে আগামী দিনে কৃষক ও সরকারের মধ্যে এই সংঘর্ষ আরও প্রবল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে কৃষক সংগঠনগুলি আইন বাতিলের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছে। তাই এখন সকলের নজর শীর্ষ আদালতের দিকে।