অনলাইন ডেস্ক, ১১ ডিসেম্বর।। ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীরা এখনও তাঁকে ভিলেন বলেই মনে করেন। সেই প্রাক্তন ভারতীয় কোচ গ্রেগ চ্যাপেলের মুখে শোনা গেল সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের স্তুতি। অস্ট্রেলিয়ার একটি সংবাদপত্রে লেখা কলামে গ্রেগ মেনে নিয়েছেন, ভারতীয় ক্রিকেটের একদা মহাত্মা গান্ধীসুলভ অহিংস ক্রিকেট দর্শনকে পাল্টে ফেলার দায়িত্ব নিয়েছিলেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক। যাকে দারুণ এক মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছেন তাঁর উত্তরসূরি বিরাট কোহলি। গ্রেগ লিখেছেন, “আগে ভারতীয় দল যে কোনও প্রতিপক্ষকে একটু বেশি সমীহ করত। দেখে মনে হত, ওরা যেন গান্ধীর অহিংস নীতিকে মাথায় রেখে খেলতে নেমেছে। সেই ভাবনাটা পাল্টাতে শুরু করে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের হাত ধরে। তবে ও দেশের মাটিতে যতটা সাফল্য পেয়েছে, সেটা বিদেশে তেমন পায়নি। কিন্তু ভারতীয় দলের শরীরী ভাষায় বিশাল একটা বদল এসে গিয়েছিল।” ‘
কোহলি সম্পর্কে গ্রেগ লিখেছেন, “কোহলি বুঝিয়ে দিয়েছে, মাঠে নেমে গান্ধী-দর্শনের ক্রিকেটে ওর আদৌ বিশ্বাস নেই। ও চায়, ভারতীয় দলকে সেরা টেস্ট শক্তি হিসেবে দেখুক বাকি বিশ্ব। ওর এই মনোভাবেই এখনকার ভারতীয় দলের মানসিকতা আমূল বদলে গিয়েছে। ওরা কোনও দলকে ভয় করে না। যে কোনও ধরনের উইকেটে প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে তৈরি। মাঠে ও বিপক্ষ দলকে দমিয়ে রাখতে সবচেয়ে বেশি পছন্দ করে। অ-অস্ট্রেলীয় হলেও ওর মধ্যে অস্ট্রেলীয় হয়ে ওঠার সমস্ত গুণই কিন্তু রয়েছে।” গ্রেগ আরও খুশি হয়েছেন, টেস্ট সম্পর্কে কোহলির মূল্যায়ন নিয়ে। তিনি বলেছেন, “এখন সীমিত ওভারের ক্রিকেট যেভাবে সবকিছুকে গ্রাস করে নিয়েছে,তাতে টেস্টের কৌলীন্য হারিয়েই যেতে পারত।
কিন্তু বিরাট পাঁচদিনের ম্যাচকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেয়। ওর এই মানসিকতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। অনেকেই ওর সঙ্গে স্টিভ স্মিথ এবং কেন উইলিয়ামসনের তুলনা করে থাকে। আমি কিন্তু স্মিথ এবং উইলিয়ামসনের চেয়ে ওকে অনেক বেশি এগিয়ে রাখব। কোনও তুলনাই চলতে পারে না। বিশেষ করে, গত বছর বিশ্বকাপের সময় যখন সকলে মাঠে স্মিথকে বিদ্রুপ করেছিল, কোহলি পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল। এতেই বোঝা যায়, একজন ভাল ক্রিকেটার হিসেবে ও কতটা পরিণত হয়ে উঠেছে।” যদিও টেস্ট সিরিজের মাঝখানে কোহলির দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে ভাল ভাবে গ্রহণ করতে পারেননি তিনি। লিখেছেন, “এটা ওর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তবে ভারত-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট সিরিজের প্রেক্ষিতে সেটা খুবই লজ্জাজনক বলে মনে হয়েছে আমার। এটা আশা করিনি।”