স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ১১ ডিসেম্বর।। দ্বিতীয় রেফারেল হাসপাতাল আইজিএম হাসপাতালে লিফট পরিষেবা নিয়ে রোগী এবং রোগীর পরিজনদের দুর্ভোগ চরমে উঠতে শুরু করেছে। রোগীর পরিজনদের অভিযোগ দীর্ঘ তাল বাহানা পরও অচল হয়ে পড়ে আছে হাসপাতালের ৪ টি লিফট। এর মধ্যে ৩ টি লিফট হাসপাতালের ওপিডি বিভাগ এবং স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ বিভাগের অর্থাৎ আউট ডোর বিভাগের।এবং ইমারজেন্সি ৩ টি লিফটের মধ্যে ১ টি অচল হয়ে আছে। এর মধ্যে ওপিডি এবং স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ বিভাগের ৩ টি লিফট গত এক বছর যাবত নষ্ট হয়ে আছে। আর ইমারজেন্সির ২ টি লিফট প্রায়ই অচল হয়ে পড়েছে।
গত চার দিন পূর্বে ২ টি লিফট নষ্ট হওয়ার পর দুটি লিফট মেরামত করা হলেও ১ টি লিফট কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পুনরায় অচল হয়ে পড়ে। ফলে রোগিদের ১ টি লিফট দিয়ে বহুতল ভবনে তুলতে হচ্ছে। রোগীর চাপ বেশি হলে আই সি ইউ -র লিফট ব্যবহার করা হচ্ছে। রোগীর পরিজনদের পায়ে হেঁটে সিঁড়ি দিয়ে বহুতল ভবনে উঠা নামা করতে হচ্ছে। আর আউট ডোরেও একইভাবে ৩ টি লিফট দীর্ঘ বছরখানেক ধরে নষ্ট হয়ে আছে। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লিফট মেরামত করার কোন প্রয়োজন বলে মনে করছে না। ফলে দ্বিতল এবং তিতল ভবনে রোগীদের এবং রোগী পরিজনদের পায়ে হেঁটেই পরিষেবার নিতে হচ্ছে। শুধু তাই নয় তিতল ভবনে সার্জারি পর্যন্ত করা হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং রোগীর পরিজনেরা জানিয়েছে এ ধরনের সমস্যা হাসপাতালের কোন নতুন বিষয় নয়। দীর্ঘ বছরখানেক ধরে ৩ টি লিফট নষ্ট হয়ে আছে।
শয্যাশায়ী রোগীদের ভর্তির জন্য উপরে কক্ষে নিয়ে যেতে হিমশিম খেতে হয় রোগীর পরিজনদের। এদিকে ইমারজেন্সি বিভাগে লিফট অপারেটর জানিয়েছেন অতিরিক্ত ভোল্টেজের জন্য লিফট গুলির ফিউজ নষ্ট হয়ে যায়। এর মধ্যে ইমারজেন্সি বিভাগের একটি লিফট গত চার দিন যাবত নষ্ট হয়ে আছে।গত এক বছরে আই জি এম হাসপাতালে রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান ডাঃ দিলীপ দাস একাধিকবার হাসপাতাল পরিদর্শনে গেলেও আউটডোরে নষ্ট অবস্থায় পরে থাকায় ৩ টি লিফট মেরামত করার দিকে এক বারের জন্যও গুরুত্ব দেননি বলে অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে রোগীর পরিজনদের পক্ষ থেকে। কিন্তু এই ধরনের দায়সারা মনোভাবের জন্য রোগী এবং রোগীর পরিজনদের নাস্তানাবুদ হতে হচ্ছে। বিকল হয়ে পড়ে থাকছে জনগণের করের পয়সায় তেরি করা কয়েক লক্ষাধিক টাকার লিফট।