রাজ্যের সার্বিক বিকাশে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি রূপায়িত হচ্ছে : মুখ্যমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ১০ ডিসেম্বর।। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্বপ উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে ভারতের ইকোনমিক ইঞ্জিন বানানো৷ প্রধানমন্ত্রী মনে করেন উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিতে কৃষি, শিল্প, পর্যটন সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে৷ আজ মহাকরণের ১নং কনফারেন্স হলে ত্রিপুরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ’পূর্বোত্তরণ’ নামক বইয়ের আনুষ্ঠানিক আবরণ উন্মোচন করে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব একথা বলেন৷ মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিতে উন্নয়নের প্রচুর সম্ভাবনা থাকা সত্বেও বিগতদিনে সেগুলির ঠিকভাবে কাজে লাগানো হয়নি৷

কারণ, উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে একটা সময় অনুন্নত অঞ্চল বলে গণ্য করা হতো৷ কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দায়িত্ব গ্রহণ করার পর উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রতিটি রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাজানোর পরিকল্পনা নিয়েছেন, যা এই বইটিতে প্রতিফলিত হয়েছে৷ এই বইয়ের বিভিন্ন বিষয় যেমন পাবলিক পলিসি ইমপ্লিমেনটেশন, এডুকেশন ও নলেজ ম্যানেজমেন্ট, সামাজিক কল্যাণ, গ্রামীণ উন্নয়ন, পর্যটন উন্নয়ন ইত্যাদি বিষয়গুলি সামাজিক ও আর্থিকভাবে আমাদেরকে সাহায্য করবে৷ তাছাড়া এই বইয়ের মূল থিম আমাদের রাজ্যের আর্থিক মেরুদণ্ডকে শক্তিশালী করার সাপেক্ষে একটা মাইলস্টোন হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী আশা ব্যক্ত করেন৷

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান রাজ্য সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে রাজ্যের সার্বিক বিকাশে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি রূপায়িত হচ্ছে৷ এ প্রসঙ্গে তিনি সাবমে ফেণী নদীর উপর নির্মীয়মান মৈত্রী সেতুর কথা উল্লেখ করে বলেন, মৈত্রী সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হলে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে স্থলপথে সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের এক মধুর সম্পর্ক রয়েছে৷ ত্রিপুরার বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন৷ যেমন ফেণী নদী থেকে সাবমবাসীকে জল প্রদান, চিটাগাং বন্দরকে ব্যবহার করার অনুমতি, এল পি জি সিলিণ্ডার বাংলাদেশ হয়ে ত্রিপুরায় নিয়ে আসার অনুমতি প্রদান, চিটাগাং বন্দর থেকে আখাউড়া পর্যন্ত সড়কপথে বিভিন্ন পণ্যবাহী কন্টেইনার আনার ব্যবস্থা ইত্যাদি সবক্ষেত্রেই বাংলাদেশ ইতিবাচক ভূমিকা নিয়েছে৷

কারণ ত্রিপুরার সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে যা তৈরি হয়েছে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে৷
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলবাসী হিসেবে আমরা ভাগ্যবান যে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এই অঞ্চলকে উন্নয়নের শিখরে পৌঁছানোর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন৷ এই বইয়ের মাধ্যমে রাজ্যের যুবকরা যারা ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের মাধ্যমে ব্যবসাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায় তারা বিভিন্ন বিষয়ে অবগত হতে পারবেন৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি অধিগৃহীত সংস্থাগুলিও বর্তমানে লাভজনক সংস্থায় পরিণত হয়েছে৷ পাশাপাশি বর্তমান সরকারের সদর্থক প্রচেষ্টার ফলে রাজ্যের বিভিন্ন সমবায় সংস্থাগুলিও লাভজনক সংস্থায় পরিণত হচ্ছে৷ গত ১ বছরে প্রায় ১০০টি সমবায় সমিতি লাভজনক সংস্থায় পরিণত হয়েছে৷ বর্তমান রাজ্য সরকার রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নের দিশায় কাজ করছে বলে মুখ্যমন্ত্রী অভিমত ব্যক্ত করেন৷ এছাড়াও আলোচনায় অংশ নেন ত্রিপুরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য গঙ্গাপ্রসাদ প্রাসিন, পূর্বোত্তরণ বইয়ের এডিটর দেবর্ষি মুখার্জি প্রমুখ৷

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যাট খুলুন
1
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান
হেলো, 👋
natun.in আপনাকে কিভাবে সহায়তা করতে পারে?