স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ১০ ডিসেম্বর।। হাতির দাঁতের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত ব্যক্তিকে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনলেন জিবিপি হাসপাতালের চিকিৎসকগণ। জটিল এই অস্ত্রোপচারের ফলে রঞ্জন মালাকারের পরিবার পরিজনদের মুখের হাসি ফিরে এলাে। পাশাপাশি এই দুরহ অপারেশনের সাফল্য রাজ্যের চিকিৎসকদের আত্মবিশ্বাস আরও মজবুত করলো। উল্লেখ্য, তেলিয়ামুড়ায় গত ৮ ডিসেম্বর বিকাল ৩টা নাগাদ হাতির দাঁতের আঘাতে গুরুতরভাবে জখম হন ৪৮ বছরের রঞ্জন মালাকার। তাকে প্রথমে গুরুতর আহত অবস্থায় তেলিয়ামুড়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাতির দাঁত তার পেটের ভেতর দিয়ে ঢুকে পিঠ দিয়ে বের হয়ে গিয়েছিলাে। অন্ত্র পেটের ভেতর থেকে বেরিয়ে পড়েছিলাে।
প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছিলাে এবং তার পিঠেও গুরুতর আঘাত ছিলাে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে জিবিপি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। রক্তের ব্যবস্থা করা সহ আনুষঙ্গিক সমস্ত ব্যবস্থাও করেন চিকিৎসকগণ। এদিনই সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট থেকে অপারেশন শুরু হয়। চার ঘন্টার সুদীর্ঘ অপারেশন শেষে রােগীকে অ্যানেস্থেটিক আইসিইউতে স্থানান্তরিত করা হয়। এই জটিল অপারেশন করেন ডাঃ দামােদর চ্যাটাজী ও ডাঃ দীপ্তেন্দু চৌধুরী। অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট ছিলেন ডাঃ ভাস্কর মজুমদার ও ডাঃ সৌরভ সাহা। এই অপারেশনে আরও ৭ জন চিকিৎসক, নার্স এবং টেকনেশিয়ানরাও সহায়তা করেন। বর্তমানে রােগী সজ্ঞানে রয়েছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।জিবিপি হাসপাতালে তার শারীরিক পরিস্থিতির প্রতি চিকিৎসকগণ নজর রাখছেন। জিবিপি হাসপাতালে সাম্প্রতিককালে একাধিক জটিল অস্ত্রোপচারে সাফল্য এসেছে।
এই অপারেশনটিও রাজ্যের চিকিৎসকদের দক্ষতার ফসল এবং রাজ্যবাসীকে উন্নততর চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রদানে আশ্বস্ত করার ক্ষেত্রে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এমন কঠিন অপারেশন আগেও করেছেন ডাঃ দামােদর চ্যাটার্জী। তরুণ শল্য চিকিৎসক ডাঃ দীপ্তেন্দু চৌধুরীও তার দক্ষতা প্রমাণ করেছেন একাধিক অস্ত্রোপচারে। যদিও রােগীর পরিবারের সদস্যরা এই অপারেশন অন্য কোথাও করার কথা ভাবছিলেন, কিন্তু চিকিৎসকরা তাদের ভরসা যােগান। বিধানসভার সরকারি মুখ্য সচেতক তথা বিধায়ক কল্যাণী রায়ও ছুটে এসেছিলেন। তিনিও ভরসা রেখেছিলেন জিবিপি হাসপাতালের চিকিৎসকদের উপর। অপারেশনের মাধ্যমে রােগীর জীবন ফিরিয়ে দিতে পেরে ডাঃ চ্যাটার্জী সহ তার পুরাে টিম তৃপ্ত। স্বাস্থ্য দপ্তরের অধিকর্তা এক প্রেস রিলিজে এই সংবাদ জানান।