স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ১০ ডিসেম্বর।। সামাজিক ভাতা থেকে বিভিন্ন কারণে যাদের নাম বাদ পড়েছে বা যারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন করতে পারেননি তারা পুনরায় ভাতা পাওয়ার জন্য আবেদনের সুুযোগ পাবেন৷ আগামী ১৫ ডিসেম্বর থেকে ২৫ জানুয়ারি, ২০২১ পর্যন্ত এই আবেদন করা যাবে৷ আজ সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের উদ্যোগে ২০১৭-১৮ এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বর্ষসেরা অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি সহায়ক ও সুুপারভাইজারদের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব একথা বলেন৷ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের এন এস এ পি স্কিমে এ পি এল হওয়ার কারণে বাদ পড়া ১০,২৭৭ জন ও সামাজিক ভাতার ভেরিফিকেশনের সময়ে গরহাজির থাকায় ১২,৯৭৭ জন, এডহক বিপিএল, ইনকাম সার্টিফিকেট, প্রফেশনাল সার্টিফিকেটের কারণে যারা তালিকাভুক্ত হতে পারেননি তারাও পুনরায় আবেদন করার সুুযোগ পাবেন৷
এমনকি কেন্দ্রীয় প্রকল্প থেকে যারা বিভিন্ন কারণে বাদ পড়েছেন তারা যেন রাজ্য সরকারের সামাজিক ভাতা পাওয়ার সুুযোগ পান সেই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে৷ যাতে করে একজনও প্রকৃত ভাতা প্রাপক বাদ না পড়েন৷ তিনি বলেন, সামাজিক ভাতা নিয়ে জনমানসে বিভ্রান্তি তৈরি করার চেষ্টা হচ্ছে৷ প্রক’ত সামাজিক ভাতা প্রাপক কেউ বি’ত হবেন না৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যেই ভাতার অর্থরাশি বাড়ানো হয়েছে, অন্যদিকে ভুয়ো নামগুলি চিহ্ণিতকরণের কাজ চলছে৷
যারা অবৈধভাবে ভাতা পাচ্ছিলেন, তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে যেন প্রক’ত ভাতা প্রাপকরা এর সুুবিধা নিতে পারেন৷ প্রজ্ঞাভবনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব বলেন, সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের আধিকারিক ও কর্মীগণ রাজ্যের প্রায় ৫ লক্ষ পরিবারের সদস্যদের সাথে সরাসরি যোগাযোগের সুুযোগ পান৷ এই সুুযোগ কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের প্রকল্পগুলির সঠিক বাস্তবায়নে বিশেষ ভূমিকা নিতে হবে দপ্তরকে৷ পরিসংখ্যান দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব বলেন, ২০১৭-র তুলনায় বর্তমান সরকারের সময়ে শিশু ও মায়েদের মৃত্যর হার কমেছে৷
তিনি আরও বলেন, সরকার সঠিক দিশাতেই কাজ করছে৷ ৯,৯১১ জন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও ২৩৪ সুুপারভাইজারকে মার্ট ফোন দেওয়া হয়েছে৷ কেন্দ্রীয়ভাবে সরাসরি তাদের সাথে যোগাযোগ করা এখন সহজ হয়েছে৷ তারা বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের আপডেট রাখতে পারছেন৷ এদিন ভোকাল ফর লোকাল প্রসঙ্গে রাজ্যের বিভিন্ন বয়ন শিল্প সহ কারিগরদের উৎসাহিত করা ও রাজ্যে এর সফলতার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী৷ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের মন্ত্রী সান্তনা চাকমা বলেন, মা, শিশু ও দিব্যাঙ্গদের সার্বিক কল্যাণে কাজ করে চলেছে দপ্তর৷ ইতিমধ্যেই অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী সহায়কদের বেতন ভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছে৷ সুুবিধাভোগীদের সহায়তায় আই সি ডি এস কর্মীদের আরও আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান রাখেন তিনি৷
এদিন রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত বর্ষসেরা অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, সহায়ক ও সুুপারভাইজারদের পুরস্কৃত করেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব, সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা মন্ত্রী সান্তনা চাকমা সহ অতিথিগণ৷ অনুষ্ঠানে অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের সচিব দীপা ডি নায়ার, চাইল্ড প্রোটেকশন কমিশনের চেয়ারপার্সন নীলিমা ঘোষ, মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন বর্ণালী গোস্বামী, দপ্তরের অধিকর্তা প্রিন্সিরাণী সহ অন্যান্যরা৷ এদিনের অনুষ্ঠানে বিভিন্ন জেলা থেকে আগত অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, সহায়ক ও সুুপারভাইজারগণও অংশ নেন৷