স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ১০ ডিসেম্বর।। গসম্প্রতি রাজ্যে আসেন প্রদেশ বিজেপির নব নিযুক্ত প্রভারি বিনোদ কুমার সোনকর। ৬ ডিসেম্বর তিনি রাজ্য অতিথিশালায় বিজেপি দলের মন্ত্রী বিধায়কদের সাথে আলোচনা করেন সাংগঠনিক বিষয়ে। সেই দিনই রাজ্য অতিথিশালায় প্রদেশ বিজেপির নব নিযুক্ত প্রভারি বিনোদ কুমার সোনকরের সামনে একাংশ লোক বিভ্রান্ত হয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে শ্লোগান তুলে। যদিও সেই ঘটনার পর কারো বুঝতে অসুবিধা হয়নি যে এই ঘটনার পিছনে রয়েছে গভীর ষরযন্ত্র। সেই ঘটনা ছিল পূর্ব পরিকল্পিত। সে যাই হোক। এই ঘটনার পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মর্মাহত হন।
তার পরই মুখ্যমন্ত্রী মহাকরণে সাংবাদিক সম্মেলন করে জনতার রায় নেওয়ার ঘোষণা দেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান ১৩ ডিসেম্বর তিনি স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানে যাবেন। সেখানে তিনি ৩৭ লক্ষ রাজ্যবাসিকে আসার আহ্বান জানান। এবং তিনি স্পষ্ট জানান তিনি মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে থাকবেন, নাকি চলে যাবেন জনতা রায় দেবে। জনতার রায় তিনি মাথা পেতে নেবেন। একই সাথে জনতার রায়ের বিষয়ে কেন্দ্রিয় নেতৃত্বকেও জানিয়্য্যে দেবেন। মুখ্যমন্ত্রীর এরই ঘোষণার পর রাজ্য রাজনিতিতে শুরু হয়ে যায় নতুন করে জল্পনা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা শুরু করে চুলচেরা বিশ্লেষণ। এরই মধ্যে বুধবার সন্ধ্যায় বিজেপি দলের মন্ত্রী বিধায়করা মুখ্যমন্ত্রীর সরকারী বাসভবনে যান। সেখানে অনুষ্ঠিত হয় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক।
দীর্ঘ প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে এই বৈঠক। বৈঠক শেষে মন্ত্রী বিধায়করা এক এক করে বেরিয়ে আসলেও কেউ বৈঠকে কি সিদ্ধান্ত হয়েছে সেই বিষয়ে মুখ খুলেননি। অবশেষে বৃহস্পতিবার এই বিষয়ে সাংবাদিকদের জানান উপমুখ্যমন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মণ। এইদিন বিজেপি দলের মন্ত্রী বিধায়ক ও নেতৃত্বদের সাথে নিয়ে আইজিএম চৌমুহনীস্থিত শ্যামা প্রসাদ সরণীর প্রবেশ মুখে সাংবাদিকদের মুখোমুখি জন উপমুখ্যমন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মণ। তিনি বলেন ১৩ ডিসেম্বর স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবের কর্মসূচী বাতিল করা হয়েছে। বুধবার বিজেপি দলের মন্ত্রী বিধায়করা মুখ্যমন্ত্রীর সরকারী আবাসে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে এই কর্মসূচী বাতিল করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে। পাশাপাশি বিজেপি দলের সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা এবং প্রদেশ বিজেপির নব নিযুক্ত প্রভারি বিনোদ কুমার সোনকর মুখ্যমন্ত্রী সাথে আলোচনা করেছেন।
তারাও জানিয়েছেন এই সময়ের মধ্যে ১৩ ডিসেম্বর স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবের কর্মসূচীর কোন প্রয়োজন নেই। তারপরই মুখ্যমন্ত্রী নিজের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেছেন। ফলে ১৩ ডিসেম্বর স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবের কর্মসূচী বাতিল করা হয়েছে। সাংগঠনিক কোন সমস্যা থাকলে তা দল দেখবে। বিজেপি দলের মন্ত্রী বিধায়কদের সমর্থন রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবের উপর।তবে এইদিন উপমুখ্যমন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মণ সাংবাদিকদের বেশকিছু প্রশ্ন এড়িয়ে যান। ৬ ডিসেম্বর রাজ্য অতিথিশালার ঘটনার পিছনে যাদের হাত রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে কিনা সেই বিষয়েও উপমুখ্যমন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মণ স্পষ্ট কিছু বলেন নি। সাংগঠনিক বিষয় দল দেখবে বলে তিনি কিছু কিছু বিষয় এড়িয়ে যান। তবে উপমুখ্যমন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মণের এইদিনের ঘোষণার পর তথা কথিত বিজেপি দলের সংস্কার পন্থিরা কিছুটা হলেও ধাক্কা খেয়েছে বলে অভিমত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।