অনলাইন ডেস্ক, ১০ ডিসেম্বর।। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদের মা মুক্তা বোবদের অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হল তাপস ঘোষ নামে এক ব্যক্তিকে। দেশের প্রধান বিচারপতির মায়ের নামে থাকা একটি বাড়ির কেয়ারটেকার ছিলেন তাপস। ওই কেয়ারটেকারের বিরুদ্ধে আড়াই কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ এনেছেন মুক্তা। পুলিশ নাগপুর থেকে তাপস নামে ওই কেয়ারটেকারকে গ্রেফতার করেছে। নাগপুর পুলিশ কমিশনার অমিত কুমার জানিয়েছেন, ডিসিপি বিনীত সাহুর তত্ত্বাবধানে পুলিশের এক বিশেষ প্রতিনিধি দল এই অভিযোগের তদন্ত করছে।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রধান বিচারপতির মা মুক্তা বোবদের নাগপুরে আকাশবাণী স্কোয়ারে একটি বাড়ি রয়েছে। ওই বাড়িটি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ভাড়া দেওয়া হয়। ২০০৭-এ ওই বাড়িটি দেখাশোনা করার জন্য তাপস ঘোষকে কেয়ারটেকার হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। এই কাজের জন্য তাপসকে উপযুক্ত বেতন দেওয়া হত। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠানে বাড়ি বুকিং হলে তাঁকে কিছু কমিশনও দিতেন মুক্তা। মুক্তার অভিযোগ, বয়স ও স্বাস্থ্যের কারণে তিনি সবকিছুই তাপসের উপর ছেড়ে দিয়েছিলেন। আর সেই সুযোগ নিয়েই তাপস তাঁকে দিনের ওর দিন ঠকিয়েছেন। ওই বাড়ি ভাড়া দিয়ে যে টাকা রোজগার হত তার বিস্তারিত হিসাব তাপস তাঁকে দিনের পর দিন দেননি। এমনকি, বিয়ের জন্য পার্টিদের কাছ থেকে কত টাকা নেওয়া হতো তাও জানাতেন না। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য বাড়ি ভাড়া দিয়ে যে টাকা তাপস নিতেন তার পুরোটাও তিনি তাঁকে দেননি। তাপস এবং তার স্ত্রী দুজনে মিলেই এই ষড়যন্ত্র করেছে।
এভাবেই বিগত এক দশকে তাপস ও তাঁর স্ত্রী আড়াই কোটি টাকা প্রতারণা করেছে। পুলিশ কমিশনার অমিত আরও জানিয়েছেন, তাপস ওই বাড়ির বুকিং সংক্রান্ত সম্পূর্ণ তথ্য বিস্তারিত জানাতে পারেননি। লকডাউনজনিত কারণে তাপসের এই জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। লকডাউনের সময় বেশ কিছু বিয়ের অনুষ্ঠান বাতিল হয়ে গিয়েছিল। ফলে বাতিল হওয়া ওই সব অনুষ্ঠানের জন্য জমা দেওয়া টাকা গ্রাহকরা ফেরত চায়। কিন্তু বারবার টাকা চেয়েও তাঁরা ফেরত পাননি। এরপরই তাঁরা বিষয়টি বাড়ির মালিক মুক্তাকে জানান। তাতেই তাপসের প্রতারণার ঘটনা সামনে আসে। নাগপুর পুলিশ সীতাবুন্দি থানায় তাপস ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা, জালিয়াতির মত একাধিক ধারায় অভিযোগ দায়ের করেছে। এই মুহূর্তে তাপসকে জেরা করা হচ্ছে।