স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ৯ ডিসেম্বর।। অল ত্রিপুরা মাদ্রাসা টিচার্স এসোসিয়েশানের উদ্যোগে বুধবার এক রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়। রাজধানীর শিবনগরস্থিত ঈদগাহ ময়দানে এই রক্তদান শিবির অনুষ্ঠিত হয়। এইদিনের রক্তদান শিবিরের উদ্ধোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। শিবিরের উদ্ধোধনি অনুষ্ঠানে আলোচনা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন করোনা পরিস্থিতির মধ্যে সকলে নিজেদের জীবন অতিবাহিত করছে। ত্রিপুরা রাজ্যেও অনেক লোকের প্রাণহানি ঘটেছে।
তারপরও ত্রিপুরার মানুষ প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানের সাড়া দিয়ে সবকিছু মেনে চলেছে। বর্তমানে সকলে করোনার সাথে মোকাবেলা করতে শিখে গেছে। মানুষের স্বভাবের, চাল, চরিত্রের পরিবর্তন হয়েছে। একটা সময় ত্রিপুরা রাজ্যে জিবি হাসপাতালে মাত্র একটি ভেন্টিলেটর ছিল। বর্তমানে প্রায় একশটির কাছাকাছি ভেন্টিলেটর রয়েছে। বর্তমানে সকলে হোম আইসোলেশনে থাকতে শিখে গেছে। একটা সময় বাইরে থেকে লোক আসলে তাকে নিজ বাড়িতে থাকতে দেওয়া হতো না। একটা সময় করোনা আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হলে শেষকৃত্যে পর্যন্ত বাধা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মানুষ সচেতন হয়ে গেছে।
জিবি হাসপাতালের কোভিড ট্রিটমেন্ট সেন্টারে রোগীর সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। সবকিছু ক্রমশ স্বাভাবিক হয়ে আসছে। একসময় পজিটিভিটি রেট ২১ শতাংশ ছিল রাজ্যে। বর্তমানে পজিটিভিটি রেট ১ দশমিক ২৯ শতাংশ। মঙ্গলবার দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন। বর্তমানে রাজ্যে রিকোভারি রেট ৯৮ শতাংশ। প্রধানমন্ত্রীর কাছে যখন যা দাবি জানানো হয় তাই তিনি মেনে নেন। সাব্রুমে মৈত্রী সেতু থেকে কক্সবাজার কাছে। তাই পর্যটকরা যেন মৈত্রী সেতুর মাধ্যমে সহজে কক্সবাজার যেতে পারে তার জন্য সহজ শর্তে পাসপোর্ট প্রদানের দাবি জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তার ব্যবস্থা করার বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও যথেষ্ট সহযোগিতা করছেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।চাল-ডালের মূল্য বৃদ্ধি পেলে গরিবের সমস্যা হয়।
তাই সরকারের মূল লক্ষ্য চাল আর ডালের মূল্য যেন বৃদ্ধি না পায়। সেই দিশাতে এই সরকার কাজ করছে। নরেন্দ্র মোদি সরকার দেশের ক্ষমতায় আসার পর ত্রিপুরার আমূল পরিবর্তন হয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসছে। একদিকে যেমন চাল-ডালের মূল্য স্থিতিশীল রয়েছে, তেমনি অন্যদিকে ত্রিপুরা রাজ্যের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন হচ্ছে। এখনো রাজ্যের গ্রামীণ এলাকায় অনেক রাস্তা খারাপ রয়েছে। ২০২২ সালের মধ্যে সকল রাস্তা সংস্কার করা হবে।
কোন রাস্তা আর খারাপ থাকবে না। তার জন্য ত্রিপুরা সরকার বাজেট তৈরি করেছে। রাস্তার জন্য অতিরিক্ত দুই হাজার কোটি টাকার বাজেট তৈরি করা হয়েছে। অনুমোদনের জন্য তা কেন্দ্রের কাছে পাঠানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা প্রকল্পের মাধ্যমে এই রাস্তাগুলো সংস্কার করা হবে। ত্রিপুরার মানুষ কোনদিন ভাবতেই পারেনি বিনামূল্যে বাড়িতে পানীয় জলের সংযোগ পেয়ে যাবে। অটল জলাধার প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের প্রতিটি বাড়িতে বিনামূল্যে পানীয় জলের সংযোগ প্রদান করা হচ্ছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে রাজ্যের প্রতিটি বাড়িতে পানীয় জলের সংযোগ হয়ে যাবে। বর্তমান সরকার বর্গাচাষীদের জন্য কেসিসি লোনের ব্যবস্থা করেছে। ধনী-গরীব সকলের জন্যই সরকার কাজ করছে।
সবকিছুর মধ্যে সরলীকরণ করা হয়েছে। সবকিছুর মধ্যেই ডিজিটেলাইজেশন করা হচ্ছে। ইপিডিএস সিস্টেম চালু করা হয়েছে। ওয়ান কার্ড ওয়ান নেশন লাগু করা হয়েছে। রাজ্যের মানুষের সার্বিক জীবনমান উন্নয়নের জন্য বর্তমান রাজ্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব।এদিনের রক্তদান শিবিরে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারম্যান বাহারুল ইসলাম মজুমদার, সংখ্যা লঘু মোর্চার সভাপতি সাহপরান উদ্দিন সহ অন্যান্যরা। উদ্ধোধনি অনুষ্ঠান শেষে রক্তদান শিবির ঘুড়ে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী সহ অন্যান্য অতিথিরা।