স্টাফ রিপোর্টার, আমবাসা, ৯ ডিসেম্বর।। গণ্ডাছড়া মহকুমার গঙ্গানগর থানার অন্তর্গত মালদা রোয়াজা পাড়া থেকে তিন শ্রমিক অপহরণের ঘটনার গ্রেপ্তার তিন এনএলএফটি জঙ্গি দলের সদস্য।
ঘটনার বিরবনে জানা যায় গণ্ডাছড়া মহকুমার গঙ্গানগর থানার অন্তর্গত মালদা রোয়াজা পাড়া এলাকার ভারত বাংলাদের সিমান্তে কাটা তারের কাজ চলছে। বহিঃরাজ্যের এক ঠিকেদারি সংস্থা এই কাজ করাচ্ছে। এই সংস্থার অধিন কাজ করছিল সুভাষ ভৌমিক, সুবল দেবনাথ ও গণপতি ত্রিপুরা।
সোমবার এই তিন শ্রমিককে অপহরণ করে নিয়ে যায় কে বা কারা। এই ঘটনার পর মহকুমা জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পরই আরক্ষা দপ্তরের উচ্চ পদস্থ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। শুরু হয় জোর তল্লাসি অভিযান।
এরই মধ্যে গণপতি ত্রিপুরার ছোট ভাই সংবাদ প্রতিনিধিদের জানায় তার দাদা সহ বাকি দুই শ্রমিককে উগ্রপন্থী নিয়ে গেছে। ৫ জনের একটি দল তাদেরকে অপহরণ করে বাংলাদেশে নিয়ে গেছে। অপহরণকারিদের কাছে বন্দুক ছিল। এইদিকে ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ সন্দেহভাজন তিন এনএলএফটি জঙ্গি দলের সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতরা হল পথন মোহন ত্রিপুরা,যতীন্দ্র ত্রিপুরা ও বৈশ্যজয় ত্রিপুরা। ধৃতদের গঙ্গানগর থানায় জোর জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হয়।
পুলিসি জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করে যে এনএলএফটি জঙ্গি দলের সদস্যদের তারা থাকার জায়গা দিয়েছিল। এমনকি তাদের খাবারের ব্যবস্থাও করেছিল তারা। ধলাই জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কল্লোল রায় সাংবাদিকদের জানান অপহরণকারী দলে প্রায় ১০ জন এনএলএফটি জঙ্গি ছিল। তাদের সকলের সাথে একে ৪৭ রাইফেল ছিল। তল্লাসি অভিযান জারি রয়েছে। এইদিকে অপহৃত সুভাষ ভৌমিক পরিবারের লোকজনদের সাথে যোগাযোগ করেছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে ধৃত পথন মোহন ত্রিপুরা,যতীন্দ্র ত্রিপুরা ও বৈশ্যজয় ত্রিপুরাকে বুধবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অপহৃতদের উদ্ধার করার জন্য জোর তল্লাসি অভিযান চালানো হচ্ছে। ইন্দো-বাংলা সিমান্তে যৌথ ভাবে তল্লাসি শুরু করা হয়েছে। সিমান্তের ঐ পারে অর্থাৎ বাংলাদেশের দিকে বাংলাদেশের নিরাপত্তারক্ষী তল্লাসি শুরু করেছে। অপরদিকে ভারতীয় সিমান্তে বিএসএফ ও পুলিশ তল্লাসি অভিযান জারি রেখেছে।
তবে অপহৃত সুভাষ ভৌমিক পরিবারের লোকজনদের সাথে যোগাযোগ করলেও মুক্তি পণ চাওয়া হয়েছে কিনা সেই বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানাননি ধলাই জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। তবে এডিসি নির্বাচনের প্রাক্কালে পাহারে এই ধরনের ঘটনায় ফের একবার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে তাহলে কি পাহাড়ে ফের একবার জঙ্গিরা সক্রিয় হয়ে উঠছে।