স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ৭ ডিসেম্বর ৷৷ কৃষি বিল প্রত্যাহারের দাবিতে প্রস্তাবিত ভারত বনধ-এর তীব্র বিরোধিতা করেছে ত্রিপুরা প্রদেশ বিজেপি৷ সোমবার বিকেলে সাংবাদিক সম্মেলনে দলের মুখপাত্র নবেন্দু ভটাচার্য বলেন, স্বার্থে আঘাত পড়েছে, তাই কৃষি বিলের বিরোধিতা করা হচ্ছে৷ সাথে তিনি যোগ করেন, ত্রিপুরায় এই বিরোধিতার কোনও প্রাসঙ্গিকতা নেই৷ কারণ, বিজেপি- আইপিএফটি জোট সরকার ক্ষমতায় এসেই কৃষকদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে৷ সহায়ক মূল্যে ধান ক্রয় করা হচ্ছে৷
বনধ-এর অন্যতম হোতা বামপন্থীরা দীর্ঘসময় ত্রিপুরায় ক্ষমতায় থেকেও সহায়ক মূল্যে ধান ক্রয়ের ব্যবস্থা করেননি, তোপ দাগেন তিনি৷ এদিন তিনি বলেন, আগামীকাল ভারত বনধ ডাকা হয়েছে৷ অথচ, ত্রিপুরায় এই বনধ-এর কোনও প্রাসঙ্গিকতা নেই৷ তাঁর দাবি, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় কেন্দ্রীয় সরকার বিল এনেছে৷ স্বামীনাথন কমিটির সুপারিশ মেনেই বিল-এ বিভিন্ন বিষয় যুক্ত করা হয়েছে৷ অথচ, বামপন্থীরা এক সময় ওই স্বামীনাথন কমিটির সুপারিশ কার্যকরের দাবিতে সোচ্চার হয়েছিলেন৷ আজ তাঁরাই ভারত বনধ করতে চাইছেন৷
নবেন্দু কটাক্ষের সুরে বলেন, কৃষকদের শোষণ করে অর্থের প্রাসাদ তৈরি করেছেন যাঁরা, এই বিল তাঁদের স্বার্থের পরিপন্থী হওয়ায় হাহাকার শুরু হয়ে গেছে৷ তিনি প্রশ্ণ ছুঁড়ে বলেন, দীর্ঘ সময় ত্রিপুরায় ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও, বিধানসভায় বহুবার দাবি রাখা হলেও ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় হয়নি কেন? তখন শুধুই কেন্দ্রের দোহাই দেওয়া হতো৷ অথচ, আজ কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে৷
বিজেপি-আইপিএফটি জোট সরকার সহায়ক মূল্যে ধান ক্রয়ের ব্যবস্থা করেছে৷ তাঁর সাফ কথা, জমির সাথে সরাসরি যুক্ত কৃষকদের উপকৃত হওয়ার লক্ষ্যেই মোদী সরকার এই কৃষি বিল এনেছে৷ এখন স্বার্থের জন্য বিলের ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে৷ তিনি জোর গলায় বলেন, আগামীকাল ত্রিপুরার জনজীবন স্বাভাবিক থাকবে৷ অফিস-আদালত, সুকল-কলেজ যথারীতি খোলা থাকবে৷
যানবাহন প্রতিদিনের মতোই চলাচল করবে৷ তাতে কারোর কোনও অসুবিধা যাতে না হয় তার জন্য যুব ও মহিলা মোর্চার কার্যকর্তারা সর্বত্র নজর রাখবেন৷ প্রয়োজনে সাহায্যের জন্য এগিয়ে যাবেন তাঁরা৷ তিনি আবারও মনে করিয়ে দেন, সর্বনাশা বনধ-এর পক্ষে বিজেপি কখনও দাঁড়ায়নি৷ ফলে, জনজীবন স্বাভাবিক রাখার জন্য সবরকম ব্যবস্থা করা হবে৷