অনলাইন ডেস্ক, ৭ ডিসেম্বর।। কেন্দ্রীয় সরকারের কৃষি আইন রদ করতে কাল, মঙ্গলবার দেশ জুড়ে বনধের ডাক দিয়েছেন প্রতিবাদে শামিল কৃষকেরা। সোমবার তাঁদের সমর্থনে রাজধানীর রাজপথে প্রতিবাদে যোগ দিলেন অ্যাথলিটরাও। সেই মিছিলে ছিলেন দুবারের এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী প্রাক্তন কুস্তিগির কর্তার সিং। ছিলেন ভারতীয় মহিলা হকি দলের প্রাক্তন অধিনায়ক রাজবীর কাউরের মতো ব্যক্তিত্বও। সকলেই মোদী সরকারকে বার্তা স্পষ্ট করে দিলেন, কৃষকদের প্রতি বঞ্চনা কোনও অবস্থায় মেনে নেওয়া যাবে না। প্রয়োজন পড়লে সমস্ত ধরনের রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রত্যাহার করতে তৈরি তাঁরা। সোমবার দুপুরে কর্তার সিংরা মিছিল করে রাষ্ট্রপতি ভবনের দিকে প্রতিবাদ জানাতে যাচ্ছিলেন।
সেই সময় পুলিশ তাঁদের পথরোধ করে। ১৯৮২ সালে অর্জুন এবং ১৯৮৭ সালে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত কর্তার সিং বলেন, “কৃষকরা বরাবর আমাদের সমর্থন করে এসেছেন। আজ সেই কৃষকভাইদের প্রতি যখন বঞ্চনা করা হয়, সেটা কী করে মেনে নিতে পারি? মনটা যন্ত্রণায় ক্ষতবিক্ষত হয়ে গিয়েছে। এই প্রবল ঠান্ডায় রাস্তায় বসে তাঁদের নিজেদের ন্যায্য দাবির জন্য লড়াই করছেন। আমি নিজে কৃষক পরিবারের ছেলে। পুলিশের আইজি পদে থাকার পরেও সময় পেলেই ক্ষেতে গিয়ে কাজ করি। আমি কী করে এই পরিস্থিতিতে মুখ ফিরিয়ে থাকতে পারি!” কর্তার জানিয়েছেন, করোনা অতিমারির কারণে চরম সংকটে পড়েছেন আমজনতা।
তার মধ্যে এমন একটা কৃষি আইন রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে সই করিয়ে নেওয়া মোটেও কাঙ্ক্ষিত ছিল না। তিনি বলেছেন, “গোটা দেশ করোনার কারণে এক কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে এগিয়ে চলেছে। তার মধ্যে সরকার কী করে সংসদের দুই কক্ষে এমন একটি বিলকে পাস করিয়ে আইনে পরিণত করতে পারল, তা মোটেও মাথায় ঢুকছে না। এটা মানি যে, পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু সেটা সাধারণ মানুষের চোখে জল ঝরিয়ে নয়। কেন সরকার জোর করে কৃষকদের এই আইন মেনে নিতে বলছে!” সর্বভারতীয় অলিম্পিক সংস্থাও সোমবার অ্যাথলিটদের প্রতিবাদকে সমর্থন জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে আইওএ প্রেসিডেন্ট নরেন্দ্র বাতরা বলেছেন, “কৃষকদের প্রতি বঞ্চনার কারণে আমাদের দেশের ক্রীড়াবিদরা সমস্ত ধরনের রাষ্ট্রীয় সম্মান ফিরিয়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। আমরা তাঁদের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। তাঁদের প্রতি পূর্ণ সমর্থনও রয়েছে। কৃষকদের আন্দোলনকে কোনও অবস্থাতেই আলাদাভাবে দেখা যাচ্ছে না। আমরা সকলেই তাঁদের সঙ্গে রয়েছি।”