অনলাইন ডেস্ক, ৬ ডিসেম্বর।। শীত পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাজধানী দিল্লিতে করোনার সংক্রমণ ক্রমশ বাড়ছে। এই প্রবল ঠান্ডার মধ্যেই খোলা আকাশের নিচে মোদি সরকারের কৃষি আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন কৃষকরা। প্রতিবাদ রত কৃষকদের মধ্যে সিংঘু সীমান্তে ৩০০-র বেশি কৃষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানা গিয়েছে। অসুস্থ কৃষকরা প্রত্যেকেই জ্বর, সর্দি, কাশির মত উপসর্গে ভুগছেন। তাই সরকারের পক্ষ থেকে বারবার তাদের করোনা পরীক্ষা করানোর জন্য অনুরোধ করা হয়। কিন্তু একজন কৃষকও করোনা পরীক্ষা করাতে রাজি হননি। কৃষকদের পাল্টা দাবি, করোনা পরীক্ষার নামে প্রশাসন তাদের বিক্ষোভ বানচাল করার চেষ্টা করতে পারে। সে কারণেই তাঁরা করোনা পরীক্ষা করাবেন না। তাতে যা হবার তাই হবে। এমনকি, এই নতুন আইন বাতিলের দাবিতে যদি তাদের মৃত্যু হয় তাতেও কোনও দুঃখ নেই।
তবে প্রতিবাদী কৃষকদের স্বাস্থ্যের বিষয়ে খেয়াল রাখার জন্য দিল্লি প্রশাসন সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে তৈরি রাখা হয়েছে অ্যাম্বুলেন্স ও বিশেষ মেডিকেল টিম। তবে শুধু সিংঘু নয়, চিল্লা গাজীপুর, টিক্রি সীমান্তেও বহু কৃষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে খবর। তবে সবথেকে অসুস্থ বেশি হয়েছেন সিংঘু সীমান্তে। অসুস্থরা সকলেই জ্বর ও সর্দি কাশিতে ভুগছেন। কৃষকদের বক্তব্য শীতের মধ্যে খোলা আকাশের নিচে থাকার কারণেই তাঁদের জ্বর, সর্দি হয়েছে। এই সুযোগে করোনা পরীক্ষা করানোর নামে তাঁদেরকে নিয়ে গিয়ে প্রত্যেকের হাতেই সরকার করোনা পজিটিভ রিপোর্ট তুলে দেবে। তারপর তাদের ১৪ দিনের জন্য কোয়ারেন্টাইনে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
ফলে তাদের আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়বে। সে কারণেই তাঁরা কোনওভাবেই করোনা পরীক্ষা করাবেন না। তবে দিল্লির আপ সরকার জানিয়েছে, করোনা পরীক্ষার সঙ্গে কেন্দ্রের কোন সম্পর্ক নেই। এটা দিল্লি সরকারের বিষয়। তাই কৃষকদের ভয় পাওয়ার কোনও আশঙ্কা নেই। একই সঙ্গে দিল্লি সরকার জানিয়েছে, প্রতিবাদ আন্দোলনে কৃষকরা কেউই মাস্ক পরছেন না। সামাজিক দূরত্বও বজায় রাখছেন না। তাই কোনও একজন কৃষক যদি করোনায় আক্রান্ত হন তাহলে সহজেই অন্যদের মধ্যে খুব দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়বে। তাই কৃষকরা যেন সতর্ক থাকেন।