অনলাইন ডেস্ক, ৬ ডিসেম্বর।। ক্রিকেটারদের সুরক্ষার কথা ভেবে নতুন আইন করে আইসিসি। তাতে কোনো ক্রিকেটারের মাথায় আঘাত লাগলে তার বদলে কনকাশন বদলি হিসেবে অন্য কাউকে খেলানো যাবে। কিন্তু নিয়ম হলো একজন ব্যাটসম্যানের বদলে ব্যাটসম্যান আর বোলারের বদলে বোলারকে নামাতে হবে। তবে এর অন্যথা যে করা যাবে না তা স্পষ্ট করে দেয়নি আইসিসি। ভারত ঠিক এ সুবিধাটাই নিয়েছে। শুক্রবার ক্যানবেরায় অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে প্রথম টি-২০তে আইনের ফাঁক বুঝে অলরাউন্ডার রবীন্দ্র জাদেজার বদলে স্পেশালিস্ট লেগ স্পিনার যুজবেন্দ্র চাহালকে খেলিয়ে দিয়েছে তারা। আর এ দুই ক্রিকেটারের নৈপুণ্যেই শুক্রবার সিরিজের প্রথম ম্যাচ জিতে যায় ভারত। ম্যাচসেরা হন চাহাল। বিষয়টি নিয়ে ক্রিকেট মহলে তুমুল সমালোচনা। খোদ ভারতীয়রাই সমালোচনা করছেন টিম ইন্ডিয়ার। শুক্রবার ব্যাটিংয়ের সময় ইনিংসের শেষ দিকে হ্যামস্ট্রিং চোটে পড়েন জাদেজা। এরপর মিচেল স্টার্কের করা ইনিংসের শেষ ওভারের তৃতীয় বল তার ব্যাটে লেগে হেলমেটে আঘাত করে।
তবুও বাকি তিন বল ক্রিজে থেকে খেলেছেন জাদেজা। এরপর ইনিংস বিরতিতে আসে কনকাশন প্রসঙ্গ। ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয় ইনিংস বিরতিতে দলের চিকিৎসককে ‘আচ্ছন্ন’ লাগার কথা জানান জাদেজা। কিন্তু সেই চিকিৎসক জাদেজা মাথায় আঘাত পাওয়ার সময় মাঠে গিয়ে এই প্রশ্ন করেননি। সমালোচনা হচ্ছে যখন প্রয়োজন ছিল তখন কেন মাঠে যাননি চিকিৎসক। আরও বিতর্কের কারণ, ক্রিকেটে আগের কনকাশনগুলোতে ব্যাটসম্যান (যেমন স্টিভ স্মিথ) মারাত্মক আঘাত পেয়েছিলেন। মাঠ ছাড়তে হয়েছিল তাকে। কিন্তু জাদেজা আঘাত পাওয়ার পরও ব্যাটিং চালিয়ে যাওয়ায় প্রশ্ন উঠছে এটি কনকাশন বদলির যোগ্য কি না? তাছাড়া তারা নিয়ম অনুযায়ী একজন অলরাউন্ডারকে না নামিয়ে স্পেশালিস্ট স্পিনারকে খেলিয়েছে। আরও একটা ব্যাপার হলো, হ্যামস্ট্রিংয়ের কারণে এমনিতেই ভালোভাবে হাঁটতে পারছিলেন না জাদেজা।
এজন্যই কি তাকে কনকাশন বদলি করিয়ে দেওয়া হলো? জাদেজার কনকাশন হয়েছে, তাই পর্যবেক্ষণে রাখার কথা বলে ম্যাচ রেফারি ডেভিড বুনের কাছ থেকে অনুমতিও নিয়ে নেয় ভারত। এ নিয়ে চরম আপত্তি করতে দেখা যায় অস্ট্রেলিয়া কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গারকে। এ ব্যাপারে পরশুর ম্যাচের পরই ভারতের সাবেক স্পিনার প্রজ্ঞান ওঝা বলেন, ‘প্রতিটি নিয়মেরই ফাঁক আছে, ভারত আজ এটার ফায়দা নিয়েছে। ’ এছাড়া স্পষ্ট ভাষায় ভারতের সমালোচনা করেছেন ভারতের অপর সাবেক ব্যাটসম্যান সঞ্জয় মাঞ্জরেকার, যিনি এই ম্যাচের কমেন্টেরও। তিনি বলেন বলেছেন, ‘এখন এটার পর কনকাশন বদলির ক্ষেত্রে অনেক চিন্তা করা হবে। পুরো ধারণাটা নিয়েই চিন্তা করতে হবে। কারণ আইন তৈরি হয় ভালো উদ্দেশ্য নিয়েই কিন্তু আমরা সবাই নিজেদের সুবিধার জন্য সেটার ফাঁক বের করায় ‘ওস্তাদ’। ভারত আইনটার ফায়দা নিয়েছে কি না, আমরা জানি না। তবে এখানে আইসিসির আরও ভালোভাবে নজর দেওয়া উচিত, যাতে একটা দল খুব বড় সুবিধা পেয়ে না যায়। ’
জাদেজার মাথায় বল লাগার পর মাঠে ফিজিও বা চিকিৎসকের না যাওয়াকেও প্রটোকল ভাঙা হিসেবে দেখছেন মাঞ্জরেকার। তবে আরেক ভারতীয়, কিংবদন্তির সুনিল গাভাস্কারের মতে অলরাউন্ডার জাদেজার বদলি চেহেল হয়তো অলরাউন্ডার নন, তাতে কনকাশন বদলিতে কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি, ‘সাধারণত অলরাউন্ডারের বদলে অলরাউন্ডারই নেওয়া উচিত, এখানে বলা হতে পারে সেটা হয়নি। কিন্তু যে ব্যাট হাতে নামছে, সে ১ করুক বা ১০০, তাকে অলরাউন্ডার বলা যেতেই পারে। ম্যাচ রেফারির যখন আপত্তি নেই, তখন এত কথা কীসের?’ অস্ট্রেলীয় অলরাউন্ডার মোয়েজেস হেনরিক্স বলেছেন, ‘কেউ আঘাত পেয়ে থাকলে তার ভালো দিকটা অবশ্যই দেখা উচিত। তবে (কনকাশন) বদলিটা যথার্থ হয়েছে কি না সেটাই আমার প্রশ্ন। ’
রিস্ট স্পিনার অনেক বেশি কার্যকর দেখে ফিঙ্গার স্পিনার জাদেজাকে ২০১৭ সালে সীমিত ওভারের ক্রিকেট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। শেষের দিকে তার ব্যাটিং অনেক বেশি কার্যকর দেখে ফিরিয়ে আনা হয় আবার। তবে গত ১৩টি টি-২০তে জাদেজা মাত্র চারটিতে উইকেট নিতে পেরেছেন। তাও এক উইকেটের বেশি নয়। শুক্রবারের ঘটনার পর তার সিরিজ শেষ হয়ে গেছে। তার জায়গায় পেসার শার্দুল ঠাকুরকে দলে নেওয়া হয়েছে। শুক্রবারের ম্যাচে প্রতিপক্ষ দলে যেখানে দুজন লেগ স্পিনার খেলেছিল, সেখানে চেহেলকে ভারত একাদশে না রাখায় বিস্মিত হয়েছিলেন সাবেক ক্রিকেটার অজয় জাদেজা। ভারত কি পরে সেই ভুল বুঝতে পারে এবং কনকাশন নিয়মের অপব্যবহার করে দ্বিতীয় ইনিংসে মাঠে নামায় চেহেলকে- এই প্রশ্ন উঠেছে। সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার টম মুডি বলছেন, ‘জাদেজার বদলি নিয়ে আমার কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু প্রশ্ন হলো তার চোটের পর মাঠে কোনো চিকিৎসক যায়নি কেন? তাহলে সেখানেই কনকাশন বদলি লাগবে কি না জানা যেত। এটা কি প্রটোকল ভাঙা নয়?’