মেডিকেলে ভর্তির ক্ষেত্রে কাউন্সেলিং চালু রাখা গেলেও কোন প্রার্থীকে ভর্তি করা যাবে না, অন্তর্বর্তী আদেশ হাইকোর্টের

স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ৪ ডিসেম্বর৷৷ মেডিকেলে ভর্তির ক্ষেত্রে আসন সংরক্ষণকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মামলায় ত্রিপুরা হাইকোর্ট কাউন্সেলিং চালু রাখা গেলেও কোন প্রার্থীকে ভর্তি করা যাবে না বলে অন্তর্বর্তী আদেশ দিয়েছে৷
প্রসঙ্গত, রিমস-এ ওবিসি সংরক্ষণে ৩টি এবং আগরতলা সরকারি মেডিকেল কলেজে আর্থিক দিক দিয়ে দুর্বল শ্রেণীর জন্য ১০টি আসন সংরক্ষিত রাখা হয়েছে৷

এ-বিষয়ে সরকারি আইনজীবী দেবালয় ভট্টাচার্যী জানিয়েছেন, ত্রিপুরায় রাজ্যের জন্য সংরক্ষিত আসন থেকে আর্থিক দিক দিয়ে দুর্বল শ্রেণী-র প্রার্থী কোন আসনে সংরক্ষণের সুবিধা পাননি৷ মেডিকেল কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া এ-বছর আগরতলা সরকারি মেডিকেল কলেজ-কে আর্থিক দিক দিয়ে দুর্বল শ্রেণীর জন্য  অতিরিক্ত ২৫টি আসন বরাদ্দ করেছে৷ সেখান থেকে ১০টি আসন ওই শ্রেণীর জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে৷

এছাড়া, রিমস বলেছে তারা কেন্দ্রীয় আইন মেনে ভর্তি নেবে৷ এক্ষেত্রে ওবিসি সংরক্ষণ কেন্দ্রীয় আইনের অধীনে বৈধ রয়েছে৷ তবে মামলাকারীর আইনজীবী অরিজিৎ ভৌমিক দাবি করেন, আর্থিক দিক দুর্বল শ্রেণীর জন্য সংরক্ষন ব্যবস্থায় রাজ্য বিধানসভায় আইন সংশোধন হয়নি৷ ফলে, এই মুহুর্তে রাজ্যে তার কার্যকর করা সম্ভব নয়৷ এদিন তিনি বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে বলেন, গত ৭ নভেম্বর মেডিকেল-এ ভর্তির জন্য মেডিকেল এডুকেশন অধিকর্তা বিজ্ঞপ্তি জারি করেন৷ তাতে দেখা গেছে, রিমস-এ ওবিসি-র জন্য ৩টি এবং আগরতলা সরকারি মেডিকেল কলেজে আর্থিক দিক দিয়ে দুর্বল শ্রেণীর জন্য ১০টি আসন সংরক্ষিত রয়েছে৷

অরিজিৎ বাবুর কথায়, ত্রিপুরায় এসটি ৩১ এবং এসসি ১৭ মোট ৪৮ সংরক্ষণ ব্যবস্থা চালু রয়েছে ত্রিপুরায়৷ কিন্তু, ওবিসি এবং আর্থিক দিক দিয়ে দুর্বল শ্রেণীর জন্য আসন সংরক্ষণের কোন আইন ত্রিপুরায় এখনো চালু হয়নি৷ তিনি বলেন, ২০১৯ সালে কেন্দ্রীয় সরকার সংসদে সংরক্ষণ আইন সংশোধন করেছিল৷ তাতে আর্থিক দিক দিয়ে দুর্বল শ্রেণীর জন্য ১০ শতাংশ সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে৷

কিন্তু, এক্ষেত্রে রাজ্যগুলির হাতে ক্ষমতা রয়েছে, তারা চাইলে ওই আইন চালু করতে পারে৷ তিনি বলেন, ওই আইন রাজ্যেও চালু করার জন্য ত্রিপুরা বিধানসভায় কোন সংশোধনী পাস করানো হয়নি৷ তাই, স্বপ্ণনীল চৌধুরী ওই ভর্তি প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ত্রিপুরা হাইকোর্ট-এ মামলা করেন৷ কারণ, এরই মধ্যে দ্বিতীয় পর্যায়ের কাউন্সিলিং-র বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে৷ তিনি বলেন, গত ২৫ নভেম্বর ওই মামলায় প্রথম শুনানি হয়েছিল৷

তখন উচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতি আকিল কুরেশি ত্রিপুরা সরকারের জবাব চেয়ে নোটিশ দিয়েছিলেন৷ আজ ওই মামলায় পুনঃ শুনানিতে ত্রিপুরা সরকার নোটিসের জবাব দিয়েছে৷ এদিন উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শুনে প্রধান বিচারপতি এক অন্তর্বর্তী আদেশ জারি করেন৷ তাতে তিনি নির্দেশ দেন, মেডিকেল-এ ভর্তির জন্য কাউন্সিলিং চালু যাবে৷ কিন্তু, কোন প্রার্থী-কে ওই সংরক্ষিত আসনে ভর্তি করা যাবে না৷ ওই মামলায় পরবর্তী শুনানি আগামী ১১ ডিসেম্বর ধার্য্য হয়েছে৷

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যাট খুলুন
1
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান
হেলো, 👋
natun.in আপনাকে কিভাবে সহায়তা করতে পারে?