অনলাইন ডেস্ক, ৪ ডিসেম্বর।। তিনিই আবার ত্রাতা হয়ে দেখা দিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভক্তদের প্রতিক্রিয়া, “সাক্ষাৎ কৃষ্ণই এসেছেন আমাদের দলে।” আইএসএলে জয়ের হ্যাটট্রিক এটিকে মোহনবাগানের। ফিজির তারকা স্ট্রাইকার রয় কৃষ্ণের নামের পাশে লেখা তিন ম্যাচে তিন গোল।
ওড়িশা এফসিকে ১-০ গোলে হারিয়ে পয়েন্ট টেবলের শীর্ষে পৌঁছে গেল এটিকে মোহনবাগান। দক্ষিণ আফ্রিকা প্রিমিয়ার লিগে দুজনে একসঙ্গে কোচিং করিয়েছেন। ফলে ওড়িশা এফসি দলের কোচ ব্যাক্সটার অনেকটাই ওয়াকিবহাল ছিলেন হাবাসের দর্শন সম্পর্কে। ম্যাচে সেটাই তিনি প্রয়োগ করলেন। অনেকটা সেই জোসে মোরিনহোর ভাষায় ‘পার্ক দ্য বাস’ টেকনিকের সাহায্য নিয়ে। সেই চক্রব্যূহ ভাঙলেন কৃষ্ণ। ইনজুরি টাইমের পাঁচ মিনিটে। চোখের নিমেষে নিখুঁত হেডে যে ভাবে বল জালে জড়ালেন, তাতেই ম্যাচের আসল কার্যসিদ্ধিটা করে বেরিয়ে গেলেন হাবাস।
সোশ্যাল মিডিয়ায় যেমন অনেকেই বলতে শুরু করেছেন, দুই ক্লাবের সংযুক্তিকরণের পরে ১৩২ বছরের মোহনবাগান হয়তো এ বার আইএসএল চ্যাম্পিয়নের শরিক হতে চলেছে। কিন্তু সে ভাবে দেখতে গেলে ৯৫ মিনিট পর্যন্ত এটিকে মোহনবাগানকে গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হত না। ন্যায্য পেনাল্টি থেকে বঞ্চিত হয়েছে হাবাসের দল। তার পরে শুভাশিস বসুর কর্নার থেকে কৃষ্ণের হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ম্যাচের ফল যা-ই হোক না কেন, গোটা ম্যাচে এটিকে মোহনবাগানের দাপট ছিল বেশি। ম্যাচে ৫৪ শতাংশ বল ছিল তাদের পায়ে।
পুরো ম্যাচে হাবাসের ফুটবলাররা খেলেছেন ৪২২টি পাস। যা নিয়ে ম্যাচের পরে নায়ক কৃষ্ণ আইএসএলের টুইটারে বলেছেন, “ম্যাচটা খুবই কঠিন ছিল। প্রতিপক্ষকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। তবে আমাদের দলের বিশেষত্ব, শেষ মিনিট পর্যন্ত লড়াই করেছি। টানা তিন ম্যাচে গোল পাওয়াটা আমার কাছেও দারুণ একটা অভিজ্ঞতা। আইএসএলে সব দলই কঠিন প্রতিপক্ষ।
আমাদের এ ভাবেই ধাপে ধাপে এগিয়ে যেতে হবে।”ঠিক যেমন ম্যাচের পরে ব্যাক্সটার মেনে নিয়েছেন, তাঁর দলে লড়াই করার মতো ফুটবলার রয়েছেন, কিন্তু নেই কৃষ্ণের মতো ফিনিশার। তিনি বলেছেন, “নিঃসন্দেহে খুব বড় মানের স্ট্রাইকার। আমাদের দলের ডিফেন্ডাররা ওকে কড়া নজরেই রেখেছিল। কিন্তু যে জায়গা থেকে ও গোলটা করে গেল, তাকে কৃতিত্ব দিতে আমি বাধ্য। কৃষ্ণই ম্যাচে ফারাক তৈরি করে দিল।”