অনলাইন ডেস্ক, ৩০ নভেম্বর।। তিনি একটা সময় খেলেছেন দুই ক্লাবেই। রবিবার সেই বোকা জুনিয়র্স এবং নোয়েলস ওল্দ বয়েস দলের ম্যাচ দেখতে মাঠে উপস্থিত ছিলেন প্রয়াত কিংবদন্তি দিয়েগো আর্মান্দো মারাদোনার কন্যা দালমা। বোকা জুনিয়র্স ফুটবলারদের মাঠে বাবার প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের ছবি দেখে গ্যালারিতে বসে কেঁদেই ফেললেন তিনি। বললেন, “বাবা আমাদের ছেড়ে কোথাও যাননি। তিনি আমাদের মধ্যেই রয়েছেন। রয়েছেন সবুজ ঘাসেই।” রবিবারের ম্যাচে বোকা জুনিয়র্স ২-০ গোলে হারিয়েছে নোয়েলস ওল্দ বয়েস দলকে।
জোড়া গোল এদউইন কারদোনার। মারাদোনা লেখা জার্সি পরে দুই দলের ফুটবলাররাই খেলতে নেমেছিলেন। এমনকী রেফারির জার্সির পিছনেও লেখা ছিল , ‘গ্রাসিয়াস দিয়েগো’ অর্থাৎ ধন্যবাদ দিয়েগো। গোল করার পরেই বোকা দলের ফুটবলাররা চলে যান বোম্বোনেরা স্টেডিয়ামের সেই বিশেষ বক্সের সামনে, যেখানে বসে নিয়মিত ম্যাচ দেখতেন মারাদোনা। সেই বক্স রবিবার ছিলেন তাঁর মেয়ে। তাঁর দিকে তাকিয়ে ফুটবলাররা করতালি দিয়ে স্বাগত জানান। আবেগ আর ধরে রাখতে পারেননি দালমা। তিনি হাউহাউ করে কেঁদে ফেলেন। শুধু তাই নয়। আর্জেন্তিনা লিগ কাপের নামও বদলে রাখা হয় কোপা দিয়েগো আর্মান্দো মারাদোনা।
সব মিলিয়ে দিয়েগোর শোকে এখনও পাথর গোটা দেশ। বোকা জুনিয়র্সে খেলা প্রাক্তন আর্জেন্তনীয় স্ট্রাইকার কার্লোস তেভেস বলেছেন, “দিয়েগো আমাদের কাছে বরাবর ছিলেন ঈশ্বর। তিনি সেই ভাবেই আমাদের হৃদয়ে থেকে যাবেন। ওঁর মৃত্যু যে বিশ্বফুটবলের পক্ষে কত বড় ক্ষতি, তা কেউ কল্পনাও করতে পারবেন না। আমরা তাঁকে কোনও দিন ভুলব না।” ১৯৮৬ বিশ্বকাপে তাঁর সতীর্থ খর্খে ভালদানো বলেছেন, “দিয়েগো অবিনশ্বর। ওর সঙ্গে প্রতিটা মুহূর্ত দারুণ উপভোগ করেছি। হয়তো এই যন্ত্রণা বয়ে বেড়ানোটা খুবই কঠিন হয়ে গেল আমাদের কাছে। তবে এটাও তো ঠিক, আমরা সকলেই এটা বিশ্বাস করি, আকাশ থেকে ও আগের মতোই দেশের হয়ে গলা ফাটাবে। আগের মতোই শিশুদের মতো আনন্দে লাফিয়ে উঠবে।”