স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ৩০ নভেম্বর।। রাজধানী আগরতলা শহরের চিত্তরঞ্জন রোডে গতকাল গভীর রাতে একটি লরিতে অগ্নিসংযোগ করেছে দুষ্কৃতিকারীরা। ঘটনার বিবরণে জানা যায় চিত্তরঞ্জন রোড এলাকায় প্রতি রাতেই বেশ কিছু সখ্যক পণ্যবাহী যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকে। বিভিন্ন ট্রান্সপোর্টের এসব গাড়ি বিশেষ করে মাল লোড-আনলোড এর জন্যই চিত্তরঞ্জন রোড এলাকায় অবস্থান করে থাকে।চিত্তরঞ্জন রোড এলাকাটি নিরাপদ ও নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে থাকার কারণেই এসব যানবাহন গুলি চিত্তরঞ্জন রোডে প্রতিরাতেই দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করে।লক্ষনীয় বিষয় হল গতকাল রাতে কতিপয় দুর্বৃত্ত পরপর কয়েকটি গাড়ির চালক ও চালকের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করে। গাড়ির চালক এবং সহ চালকরা যখন গাড়ির ভেতরে গভীর রাতে নিদ্রায় ঠিক সে সময়ে দুর্বৃত্তরা সেখানে এসে তাদেরকে ডেকে তোলার চেষ্টা করে।একটি লরি চালককে ঘুম থেকে ডেকে তুলে তার কাছ থেকে টাকা দাবি করে ওইসব দুর্বৃত্তরা।লরির সহ চালক টাকা দিতে অস্বীকার করায় তাকে মারধর করার চেষ্টা করে।বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে পরিচালক আগরতলা পূর্ব থানার পুলিশকে জানায়।
এরইমধ্যে দুর্বৃত্তরা আগুন ধরিয়ে দেয়। তাতে লোকের আংশিক ক্ষতি হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে পূর্ব থানার পুলিশ সেখানে ছুটে যায়। ততক্ষনে দুর্বৃত্তরা সেখান থেকে গা-ঢাকা দেয়। রাজধানী আগরতলা শহরের নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে এভাবে অপেক্ষমান যানবাহনের চাল চালক দের কাছ থেকে টাকা আদায়ের চেষ্টা এবং মালপত্র লুটপাটের ঘটনার চেষ্টা রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন করে প্রশ্নচিহ্নে দাঁড় করিয়েছে। আগরতলা পূর্ব থানার ঢিলছোড়া দূরত্বে এইসব ঘটনা ঘটলো পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি। যে গাড়ির সহ চালকেরকাছে দুর্বৃত্তরা টাকা দাবি করেছে এবং গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে সেই লরি চালক জানিয়েছে তারা একটি গাড়ি নিয়ে সেখানে এসেছিল। স্বাভাবিক কারণেই প্রশ্ন উঠেছে এই ঘটনার পেছনে বড় ধরনের চক্র জড়িত রয়েছে।আগরতলা শহরের নিরাপত্তা বলয় এর মধ্যেই এ ধরনের ঘটনা সংঘটিত হওয়ার পরও এখনো পর্যন্ত কাউকে আটক করতে না পারার ঘটনায় জনমনে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
বিশেষ করে যেসব যানবাহন চিত্তরঞ্জন রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় রাতে অবস্থান করে তাদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশের ঢিলেমির কারণেই এ ধরনের ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ। আগরতলা শহর এলাকার রাত্রিকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি উঠেছে। স্থানীয় জনগণ এবং ব্যবসায়ীসহ মোটর শ্রমিকদের দাবি পুলিশ ইচ্ছে করলে এসব দুর্বৃত্তদের জালে তুলতে সক্ষম হবে। কেননা রাজধানী আগরতলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে বর্তমানে সিসি ক্যামেরা লাগানো রয়েছে। এইসব সিসি ক্যামেরা র ফুটেজ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলেই দুর্বৃত্তদের জালে সক্ষম হবে।গতকাল রাতে চিত্তরঞ্জন রোডে একটি নদীতে অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর পুলিশ কি ভূমিকা গ্রহণ করে সেটাই এখন দেখার বিষয়।