অনলাইন ডেস্ক, ২৯ নভেম্বর।। চেন্নাইয়ের এক বাসিন্দাকে ১ অক্টোবর পরীক্ষামুলকভাবে সেরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ার তৈরি টিকা দেওয়া হয়েছিল। ওই টিকা নেওয়ার কিছুদিন পরেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি গুরুতর মানসিক ও স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত হন। ঘটনার জেরে ওই ব্যক্তির পক্ষ থেকে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়ে সেরাম ইনস্টিটিউটকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, চেন্নাইয়ের ওই ব্যক্তি অ্যাকিউট নিউরো এনসেফালোপ্যাথি রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। উল্লেখ্য, করোনা প্রতিরোধ করতে গোটা বিশ্ব জুড়ে ভ্যাকসিন তৈরির কাজ করে চলেছে একাধিক সংস্থা। এর মধ্যে অক্সফোর্ডের তৈরি টিকা অনেকটাই সাফল্যের দিকে এগিয়ে গিয়েছে। অক্সফোর্ডের কোভিশিল্ড ভ্যাকসিনের ১০০ কোটি ডোজ তৈরির জন্য অ্যাস্ট্রোজেনেকার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে সেরাম। কিন্তু চেন্নাইয়ের ওই ব্যক্তির বিষয়টি সামনে আসার পর এই টিকা নিয়ে নতুন করে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে।
চেন্নাইয়ের ওই ব্যক্তির পক্ষ থেকে রো এন্ড রেড্ডি নামে একটি আইনি সংস্থা সেরামকে ক্ষতিপূরণের চিঠি পাঠিয়েছে। ওই আইনি সংস্থা জানিয়েছে, চেন্নাইয়ের ওই ব্যক্তি টিকা নেওয়ার পর আদৌ ভালো নেই। তাঁকে এক সপ্তাহ হাসপাতালে ভরতি থাকতে হয়েছিল। তিনি মানসিক ও স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তাই তাঁকে দীর্ঘ সময় চিকিৎসাধীন থাকতে হবে। এজন্য ওই ব্যক্তিকে ক্ষতিপূরণ বাবদ সেরামকে দিতে হবে পাঁচ কোটি টাকা। সেরাম ছাড়াও আইসিএমআর, ড্রাগ কন্ট্রোলার অফ ইন্ডিয়া এবং অ্যাস্ট্রোজেনেকার সিইওকেও আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে। চেন্নাইয়ের ওই ব্যক্তিকে শ্রীরামচন্দ্র হায়ার এডুকেশন এন্ড রিসার্চ সংস্থায় ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছিল।
ওই সংস্থার কর্তার বিরুদ্ধেও নোটিস জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি ওই নোটিসে অবিলম্বে সেরামের ভ্যাকসিনের উৎপাদন ও পরীক্ষা বন্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে। এরপরও সেরাম যদি ভ্যাকসিন তৈরি করতে থাকে তাহলে আইনি পথেই তার মোকাবিলা করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে। চেন্নাইয়ের ওই ব্যক্তির আইনজীবী এ রাজারাম বলেছেন, তাঁরা যাদের নোটিস পাঠিয়েছেন তাদের কেউই এখনও জবাব দেয়নি। এই অবস্থায় তারা আদালতে রিট পিটিশন দাখিল করবেন। তাঁরা আইনি লড়াইয়ের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।