অনলাইন ডেস্ক, ২৯ নভেম্বর।। তিনি ভারতীয় ফুটবলের সঙ্গে ভালরকম পরিচিত। একটা সময় আই লিগে ছিলেন ইস্টবেঙ্গল দলের কোচ। পরে আইএসএলে দায়িত্ব নেন কেরল ব্লাস্টার্স দলের। অনেকের মতো তিনিও মন দিয়ে দেখেছেন আইএসএল ইতিহাসের প্রথম ঐতিহাসিক ডার্বি। এলকো সাতোরি এটিকে মোহনবাগান কোচ লোপেস আন্তোনিও হাবাসের মধ্যে দেখতে পাচ্ছেন ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের ‘স্পেশ্যাল ওয়ান’ জোসে মোরিনহোর ছায়া।একটি ওয়েবসাইটে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাতোরি বলেছেন, “হাবাস যে ভাবে রক্ষণ সংগঠনটাকে তৈরি করেন, সেটার সঙ্গে মোরিনহোর দর্শনের দারুণ সাদৃশ্য রয়েছে। আমি তো এই বিষয়ে বরাবর ওঁকে জোসের সঙ্গে তুলনা করে থাকি। এটা ঠিক যে, এটিকে মোহনবাগানে অনেক ভাল মানের ফুটবলার রয়েছে। তবে তাদেরকে ঠিক মতো ব্যবহার করার মুন্সিয়ানা না থাকলে আখেরে তা কোনও কাজেই আসবে না। সেই কাজটা দারুণ ভাবে করেছেন হাবাস। তার পরে দ্বিতীয়ার্ধে হাবাস দলকে ৫-৪-১ ছকে নিয়ে যেতেই তাল কেটে যায় ইস্টবেঙ্গলের। ওরা আরা পাল্টা আক্রমণই করতে পারেনি।” যদিও এসসি ইস্টবেঙ্গল কোচ রবি ফাউলারেরও প্রশংসা করেছেন সাতোরি।
তিনি বলেছেন, “আসলে ফাউলার একটা সময় লিভারপুলে দাপটের সঙ্গে খেলার কারণে তাঁকে নিয়ে উন্মাদনাটা বেশি হচ্ছে বা হয়েছে। কিন্তু আমি মনে করি, কোচ যে দেশেই হোন না কেন, তাঁর রণকৌশল কতটা তীক্ষ্ণ, তার উপরেই সব কিছু নির্ভর করে। এই যে বলা হয়ে থাকে, স্পেনীয় কোচেরা খুব আক্রমণাত্মক ফুটবল পছন্দ করেন, বিষয়টা ঠিক তেমন নয়। ওই আক্রমণাত্মক ফুটবলের দর্শনটা এসেছিল নেদারল্যান্ডস থেকে। কাজেই কোচ কত বড় নামের তা বিচার করার চেয়ে অনেক বেশি প্রয়োজনীয়, তিনি কী ভাবে দলটাকে ধারালো করে তুলতে পারছেন। তবে ফাউলারকে নিয়ে আশাহত হওয়ার কোনও কারণ নেই। সবে একটা ম্যাচ হল। উনি হাতেও খুব কম সময় পেয়েছেন।
আমার ধারণা, ইস্টবেঙ্গল তৈরি হয়ে যাবে।” তিনি গত মরসুমে ছিলেন কেরল ব্লাস্টার্সের দায়িত্বে। দুবারই কেরল হারিয়েছিল হাবাসের দলকে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে সাতোরির মনে হয়েছে, বুদ্ধি করে খেলতে পারলে এটিকে মোহনবাগাবকেও হারানো যায়। তিনি বলেছেন, “হাবাসের দর্শনটা খুব পরিষ্কার। উনি কাউন্টার অ্যাটাকে প্রতিপক্ষকে বিপদে ফেলতে খুব পছ্ন্দ করেন। শুক্রবার কিন্তু সেই কৌশলেই ইস্টবেঙ্গলকে চাপে রেখে দিয়েছিলেন। এটিকে মোহনবাগানের রক্ষণ এবার খুব শক্তিশালী। লম্বা উঁচু পাসেও ওদেরল পরাস্ত করা যাবে না। তাই আমার মনে হয়েছে মাঝমাঠ এবং উইংকে সচল রাখতে পারলে যে কোনও দল পাল্টা চাপ তৈরি করতে পারে হাবাসের দলের উপরে। তবে কোচের উপরেই সব কিছু নির্ভর করে। আমি নিজের অভিজ্ঞতার কথাটা জানালাম।”