স্টাফ রিপোর্টার, মোহনপুর, ২৫ নভেম্বর।। এডিসি বনধে বিয়ের গাড়িতে হামলা এবং রোগীকে হাসপাতালে যেতে দেয়নি টিপিএফ-র সমার্থক-রা। অথচ, ওই বনধ সম্পর্কে কেউ অবগত নন। কোন ঘোষণা না দিয়ে বনধ ডেকে ত্রিপুরায় অস্থিরতা কায়েম করতে চেয়েছিল টিপিএফ, এমনটাই অভিযোগ উঠেছে।
আজ নব বর-বধূ নিয়ে যাওয়ার সময় হেজামারায় বনধ সমার্থক-রা গাড়িতে হামলা চালিয়েছে। তাতে, গাড়ির কাঁচ ভেঙে গেছে এবং ওই কাঁচ ভেঙে ছিটকে পরে বরপক্ষের এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। কোনমতে তারা সিধাই থানায় ছুটে গিয়ে প্রাণে বেঁচেছেন বলে জানিয়েছেন গাড়ির চালক ঝুটন দাস। তিনি বলেন, গতকাল বরযাত্রী নিয়ে মোহনপুর বিজয়নগরে বিয়েতে এসেছি। যথারীতি আজ সকালে নতুন বর-বধূ নিয়ে ফিরে যাচ্ছিলাম। কিন্তু, বনধ সমর্থক-রা আমাদের উপর হামলা চালিয়েছেন। তাঁর দাবি, ত্রিপুরায় এডিসি এলাকায় বনধ ডাকা হয়েছে এমন কোন ঘোষণা আমাদের কানে আসেনি।
ফলে, আমরা বনধ সম্পর্কে অবগত ছিলাম না। তাঁর কথায়, বনধ সমর্থক-দের অনেক অনুনয়-বিনয় সত্ত্বেও তারা আমার কোন কথা শুনেনি। এলোপাথাড়ি আক্রমণে গাড়ির জানালার কাঁচ ভেঙে ফেলেছে। ওই কাঁচ ভেঙে গিয়ে বরপক্ষের অঞ্জন রুদ্র পাল-কে গুরুতর আহত করেছে। তাকে সিধাই প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বনধ সমর্থক-দের হাত থেকে কোনমতে পালিয়ে সিধাই থানায় ছুটে গিয়েছি।
এদিকে, খোয়াই জেলায় তেলিয়ামুড়া মহকুমায় উত্তর কৃষ্ণপুরের বাসিন্দা অসুস্থ গৌরাঙ্গ নমঃ দাস-কে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যেতে দেননি বনধ সমর্থক-রা। তিনি জানান, শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতালে যাচ্ছিলাম। কিন্তু, পথে তেলিয়ামুড়া রেল স্টেশন এলাকায় বনধ সমর্থক-রা বাধা দিয়েছেন। তাদের অনেক কাকুতি-মিনুতি সত্ত্বেও তারা হাসপাতালে যেতে দেননি। ফলে, বাধ্য হয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছি। তিনি প্রচন্ড ক্ষোভের সুরে বলেন, অতীতে অনেক বনধ হয়েছে। কিন্তু, হাসপাতাল যাত্রী, এম্বুলেন্স ইত্যাদি-কে বনধের আওতার বাইরে রাখা হতো।
অথচ, আজ অসুস্থ রোগী তারা বুঝেও আমাকে হাসপাতালে যেতে দেননি।প্রসঙ্গত, কোন ঘোষণা ছাড়াই ত্রিপুরায় এডিসি এলাকায় টিপিএফ-র ডাকা ১২ ঘন্টার বনধে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। এডিসি-র শহরাঞ্চলে বনধের কোন প্রভাব লক্ষ্য করা যায়নি। শুধু মাত্র, প্রত্যন্ত এলাকায় বলপূর্বক দোকানপাট, বাজারহাট এবং যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখতে সফল হয়েছে টিপিএফ। রেল পরিষেবা স্তব্ধ ছিল, তাতে অফিসযাত্রীরা ভীষণ অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছেন।