পুলিশের গুলিতে নিহত শ্রীকান্ত দাসের শবদেহ নিয়ে যাওয়া হয় বাড়িতে

স্টাফ রিপোর্টার, কাঞ্চনপুর, ২২ নভেম্বর।। মিজোরাম থাকে আগত ব্রু শরনার্থীদের স্হানান্তকরনের প্রতিবাদে দীর্ঘ প্রায় এক বৎসর যাবৎ উওাল উত্তরের গোটা কাঞ্চনপুর মহকুমা। আন্দোলনের পর আন্দোলন করেও মহকুমার জনগন প্রশাসনিক কোন আস্বাস পায়নি।

আন্দোলনকে জোরদার করতে গঠিত হয় নাগরিক সুরক্ষা মঞ্চ এবং যৌথ আন্দোলন কমিটি। এদের দাবি মিজোরাম থেকে আগত ব্রু শরনার্থীদের মধ্যে থেকে মোট পাঁচশ পরিবারকে কাঞ্চনপুর মহকুমায় স্হানান্তরিত করতে।সেই মোতাবেক প্রশাসন ও যৌথ আন্দোলন কমিটি এবং নাগরিক সুরক্ষা মঞ্চের নেতৃত্বদের সাথে দফায় দফায় আলোচনা ক্রমে প্রশাসনিক তরফথেকে আস্বাস প্রদান করা হয়। কিন্ত দেখাগেছে বাস্তবে তা ঠিক উল্টো।

আন্দোলনকারিদের ঘুমে রেখে রাতের আধারে চুপিসারে ব্রু শরনার্থীদের অধিকাংশকেই কাঞ্চনপুরে পুনর্বাসনের সমস্হ কিছু ঠিকটাক করা হয়ে যাচ্ছে। বিগত প্রায় ছয় দিন পূর্বে যৌথ আন্দোলন কমিটি এবং নাগরিক সুরক্ষা মঞ্চের নেতৃত্বরা অর্থাৎ জয়েন্ট মুভমেন্ট কমিটি গোটা কাঞ্চনপুর মহকুমায় বন্ধের ডাক দেয়। এই বন্ধকে বানচাল করতে কাঞ্চনপুর মহকুমা শাসক তাদের সাথে আলোচনায় না বসে বরং ১৪৪ ধারা জারি করে আন্দোলন কারিদের আরও প্রশমিত করে বলে তথ্যবিজ্ঞ মহলের অভিমত।

কিন্ত আন্দোলনকারিগন মহকুমা প্রশাসনের ১৪৪ ধারাকে অমান্য করে গনতান্ত্রিক পদ্ধতিকে হাতিয়ার করে আন্দোলন চালিয়ে যায়।আন্দোলনকারিদের সাথে এসে সামিল হয় স্কুল পড়ুয়া ছাত্রী ছাত্রীরাও। গত ২১ নভেম্বর আসাম আগরতলা জাতীয় সড়ক অবরোধের পরিকল্পনা নেয়।সেই খবর ছড়িয়ে পরতেই গোটা পানিসাগর মহকুমা প্রশাসন তরিঘরি তাদের আন্দোলনকে ছএভঙ্গ করতে প্রশাসনিক সকল ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে।

গতকাল সকাল থেকেই কাঞ্চনপুর পানিসাগর যোগাযোগের সবকটি রাস্হায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে তাদের প্রবেশে বাঁধা দেওয়া হয়। আন্দোলন কারিদের উদ্দেশ্য করে গ্যাস নিক্ষেপ করার পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলন কারিরা আরও উওেজিত হয়ে উটে। ক্ষিপ্ত জনতা মারমুখি হয়ে উটে। পরিস্হিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে টি,এস,আর ও পুলিশ লাঠি চার্জ করে। লাঠির প্রত্যাঘাতে ক্ষিপ্ত জনতা ইট বৃষ্টি শুরু করে।আন্দোলনকারিদের ইট বৃষ্টির তান্ডবে পুলিশ বাহিনি ছএ ভঙ্গ হয়ে পড়ে।

দুপক্ষের তান্ডবের ফাঁকে আচমকাই বুলেটের আঘাতে ঝাঁঝরা হয়ে যায় আন্দোলনকারি শ্রীকান্ত দাস,পিতা- ধরনি দাস নামের এক তরতাজা যুবক। মৃত শ্রীকান্তের বাড়ি কাঞ্চনপুর মহকুমার দশদা এলাকায়। তাছাড়া পুলিশের গুলিতে জয়েন্ট মুভমেন্টের দিনেশ নাথ ও হরেকৃষ্ণ দাসের পায়ে গুলি লাগে।তখনই অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেন জয়েন্ট মুভমেন্টের সদস্যরা। পুলিশ ও জয়েন্ট মুভমেন্টের হামলা পাল্টা হামলায় পুড়ানো হয় গাড়ি,বাইক। ভাংচুর করা হয় পুলিশের গাড়ি। আইন-শৃংখলার উপর নির্ভর করে ধর্মনগর ও পানিসাগর মহাকুমায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।

অপরদিকে রবিবার সকালে  ধর্মনগর জেলা হাসপাতালে জয়েন্ট মুভমেন্ট কমিটির সকল সদস্যরা ছুটে আসেন। দুপুর পায় আড়াইটে নাগাদ ময়নাতদন্তের পর পুলিশের গুলিতে নিহত শ্রীকান্ত দাসের মরদেহ তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তারপর গাড়ি দিয়ে শোক মিছিলের মাধ্যমে কাঞ্চনপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে শ্রীকান্ত দাসের মরদেহ।জানা গেছে কাঞ্চনপুরে নিহত  শ্রীকান্ত দাসের মরদেহ নিয়ে গিয়ে সেখানে শোক মিছিল বের করা হবে।

পাশাপাশি ধর্মনগর জেলা হাসপাতালের চিকিৎসক জানান, নিহত শ্রীকান্ত দাসের বুকের ডান দিকে গুলি লেগে পেছনের দিকে গিয়ে আটকে ছিলো। সেখান থেকে গুলি বের করে ফরেনসিক টেস্টে জন্য পাঠিয়ে দিয়েছেন। তবে একটি গুলিতেই প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল শ্রীকান্তের। বর্তমানে ধর্মনগর পানিসাগর সহ কাঞ্চনপুর মহাকুমা জুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে টিএসআর ও পুলিশ বাহিনী।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যাট খুলুন
1
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান
হেলো, 👋
natun.in আপনাকে কিভাবে সহায়তা করতে পারে?