অনলাইন ডেস্ক, ২২ নভেম্বর।। আয়ুর্বেদ চিকিৎসকরা এবার শুধু ওষুধই দেবেন না, ধরবেন ছুরি-কাঁচিও। আয়ুর্বেদের পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন পাঠ্যক্রমে এবার অন্তর্ভূক্ত হল অস্ত্রোপচারও, যা নিয়ে চিকিৎসকদের একটা বড় অংশই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন।
গত ১৯ নভেম্বরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আয়ুর্বেদের পিজি কোর্সে এখন থেকে সার্জারিকেও সংযুক্ত করা হবে। এজন্য সংশোধন করা হচ্ছে আইনও। প্রসঙ্গত, আয়ুর্বেদ চিকিৎসকরা দীর্ঘদিন ধরেই তাঁদের কাজের সীমা বিস্তারের অধিকার চেয়ে সরব হচ্ছিলেন। নয়া বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, আয়ুর্বেদ ছাত্রদের এবার পড়ার সময়ই অস্ত্রোপচারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
এর ফলে জেনারেল সার্জারির তালিকায় থাকা বিভিন্ন অস্ত্রোপচার করতে পারবেন তাঁরা। হাড়, চোখ, ইএনটি ও দাঁত সম্পর্কিত অস্ত্রোপচার করতে পারবেন। অ্যাপেনডিক্স থেকে দাঁত তোলা, টনসিল থেকে হার্নিয়া অপারেশনও করতে পারবেন আয়ুর্বেদে এমএস সার্জনরা। আয়ুর্বেদ চিকিৎসকদের দাবি, ভারতে শল্যচিকিৎসার ইতিহাস কয়েক হাজার বছরের প্রাচীন।
এই প্রসঙ্গে সুশ্রুত-সংহিতার প্রসঙ্গও টানছেন তাঁরা, যেখানে শতাধিক সার্জারি-যন্ত্রের উল্লেখ রয়েছে। আধুনিক আয়ুর্বেদবিদ্যার প্রেক্ষিতে সেই পারম্পরিক জ্ঞানকে প্রয়োগ করা হবে না-ই বা কেন, সেই প্রশ্নও তুলছেন আয়ুর্বেদ চিকিৎসকরা। অন্যদিকে ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন এই বিজ্ঞপ্তি নিয়ে একেবারেই খুশি নয়।
সংস্থার সভাপতি রাজন শর্মা বলেন, এর ফলে বিভ্রান্তি ছড়াবে। কেউ কেউ তো একধাপ এগিয়ে অভিযোগ করছেন, যে কেন্দ্র সরকার হাতুড়ে তৈরির কারখানা বানাচ্ছে।নতুন আইনকে জনবিরোধীও আখ্যা দিচ্ছেন তাঁরা। চিকিৎসকদের একাংশ মনে করছেন, সার্জারির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শেখানোর আগে পাঠ্যক্রমে আমূল পরিবর্তন করার দরকার ছিল, যে দিকে কেন্দ্র নজরই দেয়নি।
আয়ুর্বেদকে যে কেন্দ্র বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে, তা স্পষ্ট করা হয়েছিল আগেই। কয়েকদিন আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাজস্থানের জয়পুর ও গুজরাতের জামনগরে দুটি আয়ুর্বেদ গবেষণাগারের উদ্বোধন করেন। এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও।