স্টাফ রিপোর্টার, গুয়াহাটি, ২০ নভেম্বর ৷৷ পর্যাপ্ত এবং যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া ট্রেনের অ্যালার্ম চেইন টানার অপরাধে ২৩৯১ জনকে গত এক বছরে গ্রেফতার করেছে আরপিএফ৷ কারণ, তাতে ট্রেনের যাতায়াতে বিলম্ব হয়েছে৷ পর্যাপ্ত এবং যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া অ্যালার্ম চেইন টানা ১৯৮৯ সালের রেল আইনের ১৪১ নম্বর ধারা অনুযায়ী এক অপরাধ৷ ওই অপরাধে কারাবাসের বিধান রয়েছে৷
প্রসঙ্গত, ট্রেনের যাত্রীবাহী সব কোচেই ’’অ্যালার্ম চেইন’’-এর ব্যবস্থা রয়েছে৷ যে-কোনও জরুরিকালীন সময় যাত্রীরা যাতে ট্রেনের গার্ড, লোকো পাইলট অথবা ট্রেনে প্রহারারত কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারেন সেজন্যই এই সব চেইন-এর ব্যবস্থা থাকে ট্রেনের প্রতিটি কামরায়৷ সুরক্ষা এবং নিরাপত্তার দিক থেকে ট্রেনে ভ্রমণকালীন যাত্রীদের জন্য এই পদ্ধতিটি এক নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি হিসেবেই কাজ করে চলেছে৷ কোনও জরুরি প্রয়োজন দেখা না দিলে এই অ্যালার্ম চেইন টানার নিয়ম নেই৷
তবে জরুরিকালীন চিকিৎসা, দুর্ঘটনা যেমন ট্রেনে আগুন ধরে যাওয়া, ডাকাতি-চুরি-ছিনতাই ইত্যাদির মতো ঘটনা ঘটলে বা সে-রকম পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে অ্যালার্ম চেইন টেনে যাত্রীরা গার্ড, পাইলট, প্রহরী প্রমুখের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতে পারেন৷
পূবর্োত্তর সীমান্ত রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক জানিয়েছেন, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, চেইন টানার যে ব্যবস্থা ট্রেনগুলিতে রয়েছে কিছু কিছু যাত্রী তার অপব্যবহার করে থাকেন৷ এর ফলে সময়ানুবর্তিতা রক্ষার ক্ষেত্রে ট্রেনগুলি সমস্যার সম্মুখীন হয়, যার ফলে ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত হয়৷ পাশাপাশি সতীর্থ যাত্রীরা অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে যান৷
তাঁর কথায়, এক শ্রেণির যাত্রী যে-সব কারণে অ্যালার্ম চেইন টেনে থাকেন সেগুলি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, অত্যন্ত তুচ্ছ এবং সংবেদনশীল কারণেই তারা এই কাজটি করে থাকেন৷ এর ফলে ট্রেনের ব্রেক সিস্টেম পুনরায় সেটিং করা ছাড়াও কী কারণে অ্যালার্ম চেইন টানা হয়েছে তা রেকর্ড করতে সময়ের যে অপচয় হয় তার পরিণামে যাত্রীবাহী ট্রেনগুলিকে অযথা থেমে থাকতে হয়৷ তাঁর দাবি, অ্যালার্ম চেইন টেনে ট্রেন থামানোর ফলে ট্রেন চলাচলে যে সময় নষ্ট হয় বা ট্রেনটিকে যতক্ষণ আটকে থাকতে হয়, ট্রেনের চালক (লোকো পাইলট) স্বাভাবিক ব্রেক ব্যবহার করে ট্রেন থামানোর তুলনায় তা তিন থেকে চারগুণ বেশি৷ এর ফলে ওই রুটে চলাচলকারী অন্যান্য ট্রেনও ক্ষতির সম্মুখীন হয়৷
তিনি জানান, ট্রেনের অ্যালার্ম চেইন টানার এই বিপজ্জনক অভ্যাসের বিরুদ্ধে এবং তা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত ব্যবস্থা নিয়ে চলেছে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল৷ গত বছর, অর্থাৎ ২০১৯ সালে (জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত) অ্যালার্ম চেইন অপব্যবহারের ১,৩১৮টি ঘটনার খবর পাওয়া গেছে৷ এই সংক্রান্ত কারণে ১৭৫৬ জনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে৷ এদিকে চলতি বছরে (২০২০ সালের ১৮ নভেম্বর তারিখ পর্যন্ত) এ-জাতীয় ৪৮৯টি ঘটনার খবর পাওয়া গেছে এবং এর সঙ্গে জড়িত ৬৩৫ জন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে৷
তাঁর সাফ কথা, পর্যাপ্ত এবং যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া অ্যালার্ম চেইন টানা ১৯৮৯ সালের রেল আইনের ১৪১ নম্বর ধারা অনুযায়ী এক অপরাধ৷ রেল আইন অনুযায়ী অ্যালার্ম চেইন অপব্যবহারে জড়িত অপরাধীদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য জেলে পাঠানোর বিধান রয়েছে৷ এই শাস্তি এক বছর পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে অথবা এক হাজার টাকা জরিমানা করা হতে পারে৷কোনও কোনও ক্ষেত্রে দোষীকে জেল খাটা ছাড়া জরিমানাও দিতে হতে পারে, অর্থাৎ উভয় সাজাই দেওয়া হতে পারে৷
তাঁর অনুরোধ, বিনা অনুমতিতে এবং তুচ্ছ কারণে ট্রেন যাত্রীরা যেন অ্যালার্ম চেইন না টানেন৷ যে কোনও ধরনের জরুরি প্রয়োজনে ট্রেন থামানোর দরকার হলে সেই কাজটি করার জন্য যাত্রীরা সর্বদাই ট্রেন ক্যাপ্ঢেন, টিটিই, আরপিএফ কর্মী, ট্রেনের প্রহরারত বাহিনী, কোচ অ্যাটেনডেন্ট এবং অন্য যে-কোনও রেলকর্মীকে খবর দিতে পারেন৷