অনলাইন ডেস্ক, ১৮ নভেম্বর।। বিশ্বকাপ যোগ্যতা অর্জন পর্বে বুধবার ভোরে ব্রাজিল ২-০ গোলে উড়িয়ে দিল উরুগুয়েকে। করোনার কারণে শেষমুহূর্তে লুইস সুয়ারেসের সরে যাওয়া, মাথা গরম করে এদিনসন কাভানির মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনা হয়তো অস্কার তাবারেসের দলকে করে দিল ছন্নছাড়া। কিন্তু বুধবার তিতের দল আরও একটি বার্তা স্পষ্ট করে দিয়ে গেল, যা অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।
বুধবার ব্রাজিলের হয়ে গোল করলেন আর্থার এবং হিসার্লিসন। কিন্তু তারই সঙ্গে আরও একটি বিষয় পরিষ্কার হয়ে গেল। নেমার দা সিলভা স্যান্টোস জুনিয়র নির্ভরতা সরিয়ে ব্রাজিল আবার নিজেকে বিশ্বের সামনে নতুন ভাবে মেলে ধরার কাজ শুরু করে দিয়েছে। গাব্রিয়েল জেসুস, হিসার্লিসন, এভার্টন সোয়ারেস, রদরিগো, এক ঝাঁক নতুন তারকার আগমন আবারও যেন ব্রাজিল ফুটবলে ফিরিয়ে এনেছে সেই সাম্বার উন্মাদনা।
ম্যাচের পরে যা নিয়ে ব্রাজিল দলের কোচ তিতে বলেছেন, “আমরা দলটাকে নতুন একটা আকার দিতে চাইছি। ২০০২ সালে শেষবার বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে ব্রাজিল প্রত্যেকবারই অনেক প্রত্যাশা নিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে উপস্থিত হয়েছে। কিন্তু দর্শকদের স্বপ্ন পূর্ণ করতে পারেনি। সেই ছবিটা পাল্টাতে হলে দলে একটা বড় ধরনের পরিবর্তন দরকার।
আমি সেই কাজটাই করার চেষ্টা করেছি।” সেভাবে দেখতে গেলে দলে ৩৬ বছরের ডিফেন্ডার থিয়াগো সিলভাকে বাদ দিলে তিতের নতুন ব্রাজিল দলের ফুটবলারদের গড় বয়স ২৩-২৪ বছর। যা বার্তা দিচ্ছে, তারুণ্যকে সামনের সারিতে তুলে এনে ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপের আসরে পেলের দেশ ঝাঁপাতে চায় বিশ্বকাপ ছিনিয়ে নিতে। এবং সেই অভিযানে নেমারকে খুব একটা প্রাধান্য দিতে চান না তিতে। যদিও বুধবার ম্যাচ জয়ের পরেও ব্রাজিলীয় তারকা সম্পর্কে তিনি বলেছেন, “নেমার আমাদের দলের প্রাণশক্তি, ওকে বাদ দিয়ে আমরা এখনও কিছু ভাবতে পারি না।
চোটের কারণে ও খেলতে পারেনি, সেটা আমাদের কাছেও চিন্তার। আশা করি নেমার দ্রুত ফিট হয়ে যাবে।” তবে সঙ্গে এ-ও যোগ করেছেন, “নেমারকে ছাড়াও আমাদের আরও একটা বিকল্প আক্রমণের রাস্তা তৈরি করে রাখতে হবে। তুলে আনতে হবে সেই ফুটবলারদের যারা গোলের সামনে গিয়ে নিজেদের কাজটা হাসিল করে আসবে। সেই জায়গটা কিন্তু অনেকটাই তৈরি হয়ে গিয়েছে।”