আখ চাষে সয়ম্ভরতার পথ দেখাল মোহনভোগ পঞ্চায়েত সমিতি

৷৷ অমৃত দাস ৷৷ আত্মনির্ভর ত্রিপুরা গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার৷ উদ্দেশ্য সমাজের সব অংশের মানুষের অর্থনৈতিক এবং সামাজিক মানোন্নয়ন৷ স্ব-উদ্যোগী কোনো ব্যক্তি বা সংস্থাকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি ও অন্যান্য সহযোগিতার প্রয়াস নিয়েছে রাজ্য সরকার৷ করোনা অতিমারির কারণে অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি চাষি সমস্যায় পড়েছিলেন৷

এই পরিস্থিতিতেও সোনামুড়া মহাকুমার মোহনভোগ ব্লকের অন্তর্গত বানিয়াছড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের কৃষকরা প্রতিকূল পরিস্থিতির সামনে মাথা নত করেননি৷ তারা নিজেদের চেষ্টায় ও উদ্যোগে এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন৷ বানিয়াছড়ায় বিস্তীর্ণ এলাকাজড়ে রয়েছে তাদের আখ চাষের জমি৷ তাদের উৎপাদিত আখ স্থানীয় বাজারে কুড়ি থেকে ত্রিশ টাকায় বিক্রি হত৷ আচমকাই করোনা পরিস্থিতিতে তা নেমে যায় পাঁচ থেকে ছয় টাকায়৷

চাষিরা যখন  বিশাল ক্ষতির সম্মখীন তখন মোহনভোগ পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান শ্রীবাস ভৌমিক ও বিডিও নারায়ণ মজমদার উৎপাদিত আখ বাজারে বিক্রি না করে তার থেকে গুড় তৈরি করার পরামর্শ দেন৷ পঞ্চায়েত সমিতি ও বিডিও-র পরামর্শে মোহনভোগ ব্লকের আশা স্ব-সহায়ক দলের মহিলার সদস্যগণ উৎসাহিত হন৷
মোহনভোগ ব্লকের এই এলাকাটি আখ চাষের জন্য খুবই উর্বর৷ কোন ধরনের রাসায়নিক সারের ব্যবহার ছাড়া জৈব সার ও জৈব প্রযুক্তির মাধ্যমেই এই আখ চাষ করা হয়৷

বাজারের অন্যান্য গুড়ের তুলনায় এই আখ থেকে তৈরি গুড়ের স্বাদ এবং গুণগত মান অনেকটাই উন্নত৷ স্থানীয়ভাবে তৈরী এই ধরনের গুড়ের চাহিদা এবং দাম সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে চাষিদের সংশয় থাকলেও, গুণগতমান এবং স্বাদের জন্য লাভের মুখ দেখেন আখ চাষিরা৷ বাজারে ক্রমেই চাহিদা বেড়ে চলায় উৎসাহিত হয় অন্যান্য চাষিরাও৷ সোনামুড়া মহকুমার এই উর্বর মাটিতে এখন আখ সহ বিভিন্ন ফসল চাষ হচ্ছে৷

লাভের মুখও দেখছেন চাষিরা৷
এই অঞ্চলের কৃষকদের আখ চাষ এবং গুড় তৈরিতে আরো বেশী করে উৎসাহিত করতে মোহনভোগ মহকুমা কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের উদ্যোগে আগামী মরসুুমে জাতীয় খাদ্য মিশন প্রকল্পে ৪০০ জন আগ্রহী আখ চাষিকে সহায়তা করা হবে৷ প্রত্যেক চাষিকে ১ কানি জমিতে আখ চাষ করার জন্য আর্থিকভাবে সহায়তা করা হবে৷ তা থেকে অর্গানিক পদ্ধতিতে গুড় তৈরি করা হবে৷ শুধু তাই নয়, ত্রিপুরা গ্রামীণ জীবিকা মিশন প্রকল্পে বিনা সুুদে আখচাষিদের চল্লিশ হাজার টাকা করে ঋণ দেয়া হবে আখ চাষের জন্য৷

কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের এই উদ্যোগের ফলে আরো বেশি করে কৃষকরা আখ চাষ এবং তার থেকে অর্গানিক পদ্ধতিতে গুড় তৈরিতে উৎসাহিত হচ্ছেন৷ এতে কৃষকরা যেমন আর্থিকভাবে লাভবান হবেন, তেমনি গ্রামীণ অর্থনীতিও চাঙ্গা হবে৷ এছাড়াও কুটিরশিল্প, অতি ক্ষুদ্র শিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের অগ্রগতির মাধ্যমে  অদূর ভবিষ্যতে গড়ে উঠবে স্বনির্ভর ত্রিপুরা৷

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যাট খুলুন
1
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান
হেলো, 👋
natun.in আপনাকে কিভাবে সহায়তা করতে পারে?